২৭ জুন ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / দুর্যোগ

স্বল্পমেয়াদি বন্যা শঙ্কা

সিলেটে পাউবোর ভুল তথ্যে বিভ্রান্তি, কুশিয়ারার ফেঞ্চুগঞ্জে বিপদসীমার ওপরে পানি

মোসাইদ রাহাত

প্রকাশঃ ২৭ জুন, ২০২৬ ৩:১৪ অপরাহ্ন


সিলেটের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এ তথ্য নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) দৈনিক পানিসমতল বুলেটিনে ভুল তথ্য প্রকাশ হওয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনের বিপদসীমা ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সংশোধন করা হবে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেট অঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এর ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (২৭ জুন) বাপাউবোর সিলেট কার্যালয়ের প্রকাশিত দৈনিক পানি সমতল পরিমাপ বুলেটিনে দেখা যায়, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ৯ দশমিক ৪৬ মিটার। কিন্তু একই বুলেটিনে ওই স্টেশনের বিপদসীমা ১০ দশমিক ৮৫ মিটার উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বুলেটিন অনুযায়ী পানি বিপদসীমার অনেক নিচে রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনের প্রকৃত বিপদসীমা ৯ দশমিক ৪৫ মিটার। সে হিসাবে সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে। পাউবোর বুলেটিনে বিপদসীমা ভুলভাবে উল্লেখ করায় এ বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভুলটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

এদিকে কুশিয়ারা নদীর শেওলা স্টেশনে পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে। সকাল ৬টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১১ দশমিক ৮২ মিটার। সকাল ৯টায় তা বেড়ে হয় ১১ দশমিক ৮৫ মিটার এবং দুপুর ১২টায় দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৮৯ মিটারে। যদিও এটি এখনো বিপদসীমা (১৩ দশমিক ০৫ মিটার) থেকে ১ দশমিক ১৬ মিটার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শেওলা এলাকায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সুরমা নদীর কানাইঘাট স্টেশনে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১১ দশমিক ৭৬ মিটার, যা সকাল ৯টায় বেড়ে ১১ দশমিক ৮৪ মিটারে পৌঁছেছে। এই স্টেশনে বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। সুরমার সিলেট স্টেশনে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পানির উচ্চতা ৯ দশমিক ৪৭ থেকে ৯ দশমিক ৪৮ মিটারে ওঠে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর শেরপুর স্টেশনে পানি সামান্য কমে ৮ দশমিক ০০ মিটারে নেমেছে। সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট ও গোয়াইনঘাট এবং পিয়াইন নদীর জাফলং স্টেশনে পানির উচ্চতা এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে। লোভাছড়া ও ধলা নদীতেও পানির উচ্চতা কিছুটা বেড়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উজান থেকে নেমে আসা ঢলে আগামী কয়েক দিন সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির প্রবণতা থাকতে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কুশিয়ারারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করে ১ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে। তবে আমরা যে বিপদসীমা দিয়েছি ১০ দশমিক ৪৫ মিটার এটি ভুল তথ্য রয়েছে সেটির প্রকৃত বিপদসীমা হবে ৯ দশমিক ৪৫।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র, কুশিয়ারা, বন্যা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ