হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত ১২ সদস্যের কমিটিতে নেই প্রবাসীকল্যানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এবং সিলেট-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য সিলেট নগরকেন্দ্রীক সকল ইস্যুতে আলোচনায় থাকলেও মাজারের ব্যবস্থাপনায় গঠিত কমিটিতে তাকে রাখা হয়নি।
বুধবার সিলেট সফরে তিনি শাহজালাল (রহ) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ডিসি সারওয়ার আলমের প্রসঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘উনি (সারওয়ার আলম) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব। এ ধরনের (মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা) স্বচ্ছতার পদক্ষেপে আমাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব এবং আমরা সবাইকে নিয়ে মাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করব। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
হযরত শাহজালাল (রহ) মাজারের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত এক বৈঠক আজ শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দরগাহর উন্নয়ন, দানের অর্থের ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক কার্যক্রমের যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছেন এবং মাজার কর্তৃপক্ষও এতে সম্মতি দিয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে।
তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য। আপাতত বিদ্যমান কমিটিই প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দানের অর্থ গণনা করবে এবং তা চলমান ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রীকে প্রধান করে গঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবারের দুজন সদস্য এবং মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুজন প্রতিনিধি। কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন সিলেটের জেলা প্রশাসক।