কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাটের ৫ বাসিন্দা নিহত
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২১ জুন, ২০২৬ ৪:০২ অপরাহ্ন
৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতিবিজড়িত সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও দানের ঐতিহাসিক ডেগ নিয়ন্ত্রণে নেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রত্যাহার করা হলো সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে। রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে স্বপদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব (সংযুক্ত) পদে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
গত ১২ জুন মাজার পরিদর্শনে গিয়ে দানবাক্সে তালা লাগানোর নির্দেশ দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। এরপর ১৮ জুন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং দানের ব্যবহৃত পুরোনো তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা করা হয়। নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয় আনসার সদস্যও।
এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে ওই রাতেই দরগাহ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন একদল ভক্ত। তারা ‘লালে লাল-বাবা শাহজালাল’ স্লোগান দিয়ে প্রশাসনের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দরগাহের খাদিম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না এই পদক্ষেপকে মাজার ও অলি-আউলিয়া বিরোধী কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে বলেন, হিসাব চাইতেই পারেন কেউ। কিন্তু জোর-জবরদস্তি করে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা চলছে, সেটা ঠিক নয়।
এরপরও থেমে থাকেনি প্রশাসনের তৎপরতা। শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় মাজার প্রাঙ্গণে দানবাক্স ও সিলগালা করা ডেগগুলোর ওপর সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত আটটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয় পর্যায়ক্রমে মোট ১২টি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনার কথা জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুদ রানা।
অন্যদিকে, সিলেটে ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে পক্ষে বিপক্ষে মন্তব্যের ঝড়। ফটোসাংবাদিক শেখ নাসির ফেইসবুকে লিখেন, অবশেষে ডিসি সাহেবের সিলেট পার্টের কিচ্ছা খতম, প্রত্যাহার করা হয়েছে, সাথে নিয়ে গেলেন কিছু। যা তার প্রাপ্য। আশাকরি, সরকারি দানবাক্সখ্যাত এলআর ফান্ডের হিসাবটার ব্যাবস্থা করে যাবেন, এটা আধ্যাত্মিক নগরবাসীর দাবি।
এছাড়া বদলির খবরে সিলেটের বাসিন্দা আনিসুর রহমান মোয়াজ লিখেন,নিঃসন্দেহে উনি একজন ভালো মানুষ, তাই উনাকে ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়েছে। একটা কথা আছে ভালো মানুষের কদর করতে জানি না আমরা, সেই উক্তিটি আবারও বাস্তব হলো।
আলম খান মুক্তি নামে এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারি লিখেন, সিলেটের পূর্ণ্যভূমি হযরত শাহজালাল (রা) মাজারের সাথে বেয়াদবী কেউ ঠিকতে পারেনি। সারওয়ার আলমও পারার কথা ছিল না।
এছাড়াও এমজেএইচ জামিল লিখেন, মাজারকাণ্ডে সিলেটের ডিসি সারওয়ারের বদলীতে গৌরগোবিন্দের প্রেতাত্মারা জয়ী। গৌরগোবিন্দকে পরাজিত করে সিলেটে কালেমার পতাকা উড়ানো সিলেটে এবার বিজয়ী হলো গৌরগোবিন্দের প্রেতাত্মারা। শাহজালাল ও শাহপরানের মাজারের পবিত্রতা রক্ষায় মাদক নিষিদ্ধ এবং মাজারের আর্থিক আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই কাল হলো জননন্দিত ডিসি সারওয়ারের।
উল্লেখ্য, সিলেটের সাদাপাথর লুটের ঘটনায় বিতর্কিত আগের জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার গতবছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় একসময়ের জনপ্রিয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমকে।
সিলেট, শাহজালাল মাজার, সারওয়ার আলম, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের