১৫ জুন ২০২৬

খেলাধুলা-বিনোদন / বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল নেদারল্যান্ডস-জাপান

ভয়েস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশঃ ১৫ জুন, ২০২৬ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন


র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসাবে নেদারল্যান্ডস অনেক এগিয়ে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ডাচরা পঞ্চম, জাপানের অবস্থান ১৮তম। তবে মাঠের ফুটবলে সেই ব্যবধানের ছাপ দেখা গেল না। বরং দুইবার পিছিয়ে পড়েও দারুণ লড়াই করে নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে মূল্যবান এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে জাপান।


ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২–২ গোলের ড্রয়ে। ম্যাচের দুই অর্ধ যেন ছিল দুই ভিন্ন গল্প। প্রথমার্ধে গোলশূন্য ও কিছুটা নিষ্প্রাণ ফুটবল দেখা গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে চার গোলের রোমাঞ্চে জমে ওঠে লড়াই। একপর্যায়ে মনে হয়েছে, চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচ হয়তো এটাই।


প্রথমার্ধে দুই দলই কয়েকটি আক্রমণ গড়লেও গোলের দেখা পায়নি। ফলে বিরতিতে যায় ০–০ সমতায়।


বিরতির পর ম্যাচে প্রাণ ফিরে আসে। ৫১ মিনিটে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। রায়ান গ্রাভেনবার্চের দারুণ এক ক্রস থেকে হেডে গোল করেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ডাচ ডিফেন্ডারের এটি ছিল প্রথম গোল। লিভারপুলের দুই সতীর্থের সমন্বয়ে আসা গোলটি ডাচদের এগিয়ে দেয়।


তবে জাপানকে কখনোই সহজে হার মানানো যায় না। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠা দলটি আবারও প্রমাণ করল নিজেদের মানসিক দৃঢ়তা। পিছিয়ে পড়ার মাত্র ছয় মিনিট পরই সমতায় ফেরে তারা।


৫৭ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ডাচদের বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত শট নেন কেইতো নাকামুরা। বলটি ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে জালে জড়ালে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১–১।


সমতায় ফেরার পর ম্যাচে গতি আরও বাড়ে। ৬৪ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। এবারও আক্রমণ সাজান গ্রাভেনবার্চ। তার পাস থেকে বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে এসে নিখুঁত শটে গোল করেন ক্রিসেনসিও সামারভিল। জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি কয়েকটি দারুণ সেভ করলেও এই শট ঠেকাতে পারেননি।


২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর জয় যেন হাতছানি দিচ্ছিল নেদারল্যান্ডসকে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে ম্যাচে এগিয়ে গিয়ে কখনো জয় হাতছাড়া করেনি ডাচরা। কিন্তু সেই পরিসংখ্যান বদলে দেয় জাপান।


হার এড়াতে শেষ দিকে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় হাজিমে মরিয়াসুর দল। একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে ডাচ রক্ষণভাগ। অবশেষে ৮৮ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে প্রথমে হেড করেন বদলি নামা ফরোয়ার্ড কোকি ওগাওয়া। বলটি এরপর দাইচি কামাদার মাথা ছুঁয়ে জালে জড়ায়। স্কোরশিটে গোলটি কামাদার নামে লেখা হলেও আক্রমণটির মূল কারিগর ছিলেন ওগাওয়া।


সমতাসূচক গোলের পর ডালাস স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের মধ্যে জাপানি সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। দুইবার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরে আসার আনন্দে উৎসবে মেতে ওঠেন তারা।


এই ড্রয়ের ফলে বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচ অপরাজিত থাকার কৃতিত্ব ধরে রাখল জাপান। কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারানোর পর শেষ ষোলোয় ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরেছিল তারা। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের অপরাজিত থাকার ধারাও অব্যাহত থাকল। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টানা ১৭ ম্যাচ অপরাজিত রইল রোনাল্ড কোমানের দল।


গ্রুপ ‘এফ’-এর এই ড্রয়ে দুই দলই একটি করে পয়েন্ট পেয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের শুরুতে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) দলগুলোর ইতিবাচক পারফরম্যান্সের ধারাও বজায় থাকল। দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পর কাতার এবং জাপানও পিছিয়ে পড়েও নিজেদের ম্যাচ থেকে পয়েন্ট আদায় করে নিয়েছে।


শেয়ার করুনঃ

খেলাধুলা-বিনোদন থেকে আরো পড়ুন

নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান, জাপান ২-২ নেদারল্যান্ডস, বিশ্বকাপ ২০২৬, দাইচি কামাদা, কেইতো নাকামুরা, ভার্জিল ফন ডাইক, ক্রিসেনসিও সামারভিল, রায়ান গ্রাভেনবার্চ, জাপান ফুটবল দল, নেদারল্যান্ডস ফুটবল দল

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ