মাগুরছড়ার গ্যাসকূপ বিস্ফোরণ: ২৯ বছরেও মেলেনি ক্ষতিপূরণ
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ১৪ জুন, ২০২৬ ১:২৩ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়ায় ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মধ্যরাতে গ্যাস অনুসন্ধান কূপে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের স্মৃতি এখনো স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক হয়ে আছে। হঠাৎ বিস্ফোরণের পর আগুনের শিখা আকাশ ছুঁয়ে প্রায় ৬০০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছে যায়। মুহূর্তেই বদলে যায় পুরো এলাকার চিত্র।
ঘটনার প্রায় ২৯ বছর পার হলেও এখনো সেই বিপর্যয়ের দায়ে অভিযুক্ত মার্কিন প্রতিষ্ঠান অক্সিডেন্টাল অব বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছ থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন নাগরিকরা এখনো নিয়মিতভাবে ক্ষতিপূরণের দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা যায়, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন সরকার বৃহত্তর সিলেটের ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টাল পেট্রোলিয়াম-এর সঙ্গে চুক্তি করে। পরবর্তীতে কমলগঞ্জের মাগুরছড়ায় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মিটার গভীর কূপ খননের লক্ষ্য থাকলেও ৮৪০ মিটার খননের সময়ই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের চা-বাগান, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষতি করে। বিদ্যুৎলাইন, গ্যাস পাইপলাইন, সড়ক ও রেলপথসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী ও পাখির বড় একটি অংশও প্রাণ হারায় বলে জানা যায়।
প্রথম দিকে টানা প্রায় ১৫ দিন কূপে আগুন জ্বলতে থাকে। পরে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আংশিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পুরো কূপটি সিল করতে সময় লাগে প্রায় ছয় মাসের বেশি।
তেল-গ্যাস খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই ঘটনায় বিপুল পরিমাণ গ্যাস নষ্ট হয়ে যায়, যার আর্থিক মূল্য হাজার হাজার কোটি টাকার সমান। পাশাপাশি পরিবেশ ও অবকাঠামোগত ক্ষতিও ছিল ব্যাপক।
১৯৯৮ সালের জানুয়ারিতে কূপের আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এর আগেই ১৯৯৭ সালের শেষ দিকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কার্যক্রম গুটিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। তবে ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারিভাবে একাধিকবার আলোচনা হলেও এখনো কার্যকর কোনো ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়নি। ফলে প্রতিবছর ১৪ জুন মাগুরছড়া, কমলগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় মানববন্ধন ও স্মরণসভা করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির এক বাসিন্দা বলেন, বন ও পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর সঠিক মূল্যায়ন হয়নি।
অক্সিডেন্টাল পেট্রোলিয়াম, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি, তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, পেট্রোলিয়াম কোম্পানি, জ্বালানি খাত, OXY কোম্পানি, বহুজাতিক তেল কোম্পানি, গ্যাস ও তেল উৎপাদন, বিশ্ব জ্বালানি কোম্পানি