শেষ মুহূর্তের গোলে সুইজারল্যান্ডের জয় কেড়ে নিল কাতার
খেলাধুলা-বিনোদন
প্রকাশঃ ১৪ জুন, ২০২৬ ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো স্কটল্যান্ডের। বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়ের দেখা পেতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩৬ বছর। আর ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মূলপর্বে ফিরে প্রথম ম্যাচেই সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাল স্টিভ ক্লার্কের দল। হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে আসরের শুভসূচনা করেছে স্কটিশরা।
নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে স্কোরলাইন স্কটল্যান্ডের পক্ষে থাকলেও মাঠের খেলায় দুই দলের ব্যবধান ছিল খুবই সামান্য। বরং বেশ কয়েকটি পরিসংখ্যানে এগিয়ে ছিল হাইতি। মাঝমাঠে আধিপত্য, আক্রমণের সংখ্যা এবং গোলের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে ক্যারিবীয় দেশটি স্কটল্যান্ডকে বেশ চাপে রেখেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে হাইতি। স্কটল্যান্ডকে নিজেদের অর্ধে আটকে রেখে কয়েকটি ভালো সুযোগও তৈরি করে তারা। তবে শেষ মুহূর্তে আক্রমণভাগের ব্যর্থতায় গোলের দেখা পায়নি দলটি।
খেলার গতিপ্রকৃতির বিপরীতে ২৮ মিনিটে এগিয়ে যায় স্কটল্যান্ড। দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে ডি-বক্সের সামনে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন জন ম্যাকগিন। সেই এক গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
গোল হজমের পরও হাল ছাড়েনি হাইতি। ৪২ বছর পর বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পাওয়া দলটি সমতায় ফেরার জন্য একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে। কয়েকবার স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগ ভেঙেও ঢুকে পড়েছিল তারা। কিন্তু গোলমুখে গিয়ে ব্যর্থতা সঙ্গী হওয়ায় হতাশ হতে হয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি হাইতির দ্বিতীয় অংশগ্রহণ। এর আগে ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে উঠে তিনটি ম্যাচই হেরেছিল তারা। এবারের আসরেও শুরুটা হলো পরাজয় দিয়ে। ফলে বিশ্বকাপের মূলপর্বে এখনও জয়ের স্বাদ অধরাই রয়ে গেল ক্যারিবীয় দেশটির।
অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডের জন্য এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, ইতিহাসেরও অংশ। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে শেষবার অংশ নিয়ে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে চারটি জয় ছিল স্কটিশদের। হাইতিকে হারিয়ে সেই সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচে।
তবে জয় পেলেও নিজেদের খেলায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই স্কটল্যান্ডের। ম্যাচের বড় একটা সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে পিছিয়ে ছিল তারা। নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে পরের ম্যাচগুলোতে আরও গোছানো ও কার্যকর ফুটবল খেলতে হবে ক্লার্কের দলের।
তবু দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার পর বিশ্বকাপ মঞ্চে জয়ের হাসি স্কটিশ সমর্থকদের জন্য সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আর হাইতির জন্য রয়ে গেল আক্ষেপ, সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ইতিহাসের পাতায় অন্য এক গল্পও লেখা হতে পারত।
ফুটবল বিশ্বকাপ, স্কটল্যান্ড ফুটবল দল, হাইতি ফুটবল দল, জন ম্যাকগিন, স্টিভ ক্লার্ক, বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড, বিশ্বকাপে হাইতি, স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয়, ৩৬ বছর পর জয়, ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা