১২ জুন ২০২৬

ব্যবসা-বাণিজ্য / অর্থনীতি

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭

হাওরাঞ্চলের জন্য ২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, কোন খাতে কত

২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে হাওরের অবকাঠামো, শিক্ষা, জলবায়ু অভিযোজন ও সামাজিক সুরক্ষায় বহুমুখী বরাদ্দ; আন্তর্জাতিক অর্থায়নে পরিবেশ সংরক্ষণ প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১১ জুন, ২০২৬ ৬:২৩ অপরাহ্ন


অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন, তাতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরাঞ্চলের জন্য ২,৫০০ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দের প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে। 


অবকাঠামো, শিক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা—একাধিক খাতে এ অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট সংশ্লিষ্ট নথিতে প্রকাশ করা হয়েছে। 


সর্বোচ্চ বরাদ্দ অবকাঠামোতে


হাওরের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে যোগাযোগ অবকাঠামোতে এবার সর্বোচ্চ মূলধন বিনিয়োগ রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে 'হাওর এলাকা এলিভেটেড রোড অ্যান্ড ফিজিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (১ম সংশোধিত)'-এর জন্য ২৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 


এ ছাড়া ২০২২ সালের বন্যায় সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪২০ কোটি ৬২ লাখ টাকা।


সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ, জগন্নাথপুর ও ছাতক উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১৯ কোটি এবং মহসিন নদীর উপর পাগলা সেতু নির্মাণে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে বাজেটের পেশ করা হয়েছে। 


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যা-সহনশীল বিনিয়োগ


হাওরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যা-সহনশীল করে গড়ে তুলতে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকার নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উন্নয়নে ১৩০ কোটি এবং হাওরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।


জলবায়ু অভিযোজনে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন

পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পগুলোতে বড় অংশ আসছে বৈদেশিক অনুদান থেকে। জিইএফ ও ইউএনডিপির অর্থায়নে ‌কমিউনিটি-বেসড ম্যানেজমেন্ট অব টাংগুয়ার হাওর ওয়েটল্যান্ড ইকোসিস্টেম শীর্ষক প্রকল্পে ২ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।


এছাড়াও বরেন্দ্র ও হাওর অঞ্চলের খরা মোকাবিলায় 'ইকোসিস্টেম-বেসড অ্যাপ্রোচেস টু অ্যাডাপটেশন (ইবিএ)' প্রকল্পে ৬ কোটি ২ লাখ ২৩ হাজার ডলার বা প্রায় ৭৩৪ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 


এর বাইরে অ্যাডাপটেশন ফান্ডের আওতায় হাওরে স্থানীয়ভাবে পরিচালিত আবাসন সমাধান প্রকল্পে ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ৬১ কোটি টাকার পাইপলাইন প্রকল্প রয়েছে বলে বাজেট দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে।


সামাজিক সুরক্ষা ও জীবিকায়ন কর্মসূচি


চর, হাওর ও অনগ্রসর এলাকার উন্নয়নে 'বিশেষ অনুদান' খাতে ৫০ কোটি টাকা আলাদাভাবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 'সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি'র আওতায় ২৩৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে চর ও হাওরাঞ্চলের বাসিন্দাদের খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবায়।


মৎস্যজীবীদের জন্য ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) সুবিধা এবার হাওর ও সুন্দরবন এলাকায় সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সারা দেশে ১৫ লাখ মৎস্যজীবী পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে।


কৃষি, মৎস্য ও পানিসম্পদ


কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণার হাওরে ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পে ৩০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সুনামগঞ্জের দেরাইতে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণে ৯ কোটি ২ লাখ এবং হাওর অঞ্চলে বৃহত্তর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনে ৭০ লাখ ডলার বা প্রায় ৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প রয়েছে।


সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত পানিসম্পদ উন্নয়নে প্রথম পর্যায়ে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে বাজেট নথি থেকে জানা গেছে।


টেকসই উন্নয়নের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি


বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী হাওরাঞ্চলের জনগণের টেকসই উন্নয়নে বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে টেকসই কৃষি ও মৎস্য চাষ, হাঁস পালন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং অঞ্চলটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পের বিকাশ।


শেয়ার করুনঃ

ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে আরো পড়ুন

জাতীয় বাজেট, হাওরাঞ্চল, বরাদ্দ, জলবায়ু অভিযোজন,

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ