গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের অভিযোগ
রাজনীতি
প্রকাশঃ ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১:২৪ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলা এবং মৌলভীবাজারে পুলিশের বাধার ঘটনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা বৃহস্পতিবার সিলেটে পৌঁছেছেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে দক্ষিণ সুরমার পারাইচক বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে দলীয় নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান। সেখান থেকে নেতারা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) যান। বর্তমানে তারা সেখানে অবস্থান করছেন।
এনসিপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিলেটে কর্মসূচি ঘিরে প্রশাসনের সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলার পাঁচ উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি সদর দপ্তরে আবেদন পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে বুধবার হবিগঞ্জে যেতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে রাত কাটান এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সেখান থেকে তারা সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন।
মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া বলেন, বুধবার রাতে কেন্দ্রীয় নেতারা সার্কিট হাউসে অবস্থান করেন। বৃহস্পতিবার সিলেটের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে তারা রওনা হয়েছেন। এর আগে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তারা মৌলভীবাজারে ফিরে আসেন।
বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর শ্রীমঙ্গলের ‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকায় প্রথমে পুলিশ তাদের গাড়িবহরের পথরোধ করে। পরে রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড ও বাহুবলের কামাইছড়া এলাকায় আরও দুই দফা বাধার মুখে পড়ে গাড়িবহর। একপর্যায়ে নাহিদ ইসলামসহ নেতারা সড়কে অবস্থান নেন। দীর্ঘ আলোচনার পর পুলিশ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার অনুমতি দেয়।
রাত ৮টার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগের বাদী হন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল। প্রতিনিধি দলে নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী, হাসনাত আব্দুল্লাহ, ডা. মাহমুদা মিতু ও সারোয়ার আলমও ছিলেন।
এনসিপির সিলেট জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রকৌশলী কামরুল আরিফ বলেন, সিলেটে পৌঁছে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রথমে গোলাপগঞ্জে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নিহত একাধিক শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর বিকেলে কানাইঘাট এবং সন্ধ্যায় ওসমানীনগরে সমাবেশ করবেন। শুক্রবার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন।
জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের সুপারিশের ভিত্তিতে বিজিবি মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট পাঁচ উপজেলায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েনের আবেদন করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করে অভিযোগ করেন এনসিপির নেতারা। এর প্রতিবাদে বুধবার হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলেও মৌলভীবাজার থেকে সেখানে যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গল ও বাহুবল এলাকায় একাধিকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর।
এনসিপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, জুলাই পদযাত্রা, সিলেট, শাবিপ্রবি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সারজিস আলম,