সিলেটে ১২ ঘণ্টায় ৫৮.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড, ভারী বৃষ্টির আভাস
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ৯ জুন, ২০২৬ ২:২৭ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে মূল্যবান গাছ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে উদ্যানের বিভিন্ন অংশ থেকে সেগুন, আগর, আকাশমণি, চামলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ট্রাকযোগে পাচার করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটকের সামনের একটি মাটির রাস্তা ধরে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করলে বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ১৫–১৬টি গাছের কাটা গোড়া দেখা যায়। একই সঙ্গে গভীর জঙ্গলে ঝড়ে উপড়ে পড়া শতবর্ষী দুটি বড় সেগুন গাছও নজরে আসে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যথাযথ নজরদারি না থাকলে এসব গাছও চোরচক্রের কবলে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, “প্রতিদিনই টহল জোরদার রয়েছে। কাঠ পাচারের কোনো সুযোগ নেই। কোথাও গাছ কাটার সংবাদ পেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করা হয়। প্রতি মাসে চার–পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়। ঝড়ে পড়ে থাকা গাছগুলো গভীর জঙ্গলে থাকায় রেঞ্জ অফিসে আনার ব্যবস্থা নেই।”
অন্যদিকে রাজকান্দি রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) প্রীতম বড়ুয়া বলেন, রাজকান্দি রেঞ্জের আওতাধীন বনাঞ্চল অত্যন্ত বিস্তৃত। লোকবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট তুলনামূলকভাবে কম হলেও কাঠ ও বাঁশ চোরদের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এখানে নির্বিচারে গাছ কাটা অব্যাহত থাকলে জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বন রক্ষায় আরও কার্যকর নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে গাছ কাটা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। অভিযোগ পাওয়া স্থানগুলোতে বন বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, গাছ পাচার, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার, বন উজাড়, বন সংরক্ষণ, অবৈধ গাছ কাটা