০৪ মে ২০২৬

দৈনন্দিন

ভুইফোঁড় সংগঠনের 'চাঁদা' দাবির আবেদনে তিন জিপি-পিপির সুপারিশ নিয়ে সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৬ মে, ২০২৫ ১০:৩৬ অপরাহ্ন


সিলেট জেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে আর্থিক অনুদানের নামে 'চাঁদা‘ চেয়ে একটি ভুঁইফোড় সংগঠনের করা আবেদনে সুপারিশ করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন একজন গভর্নমেন্ট প্লিডার (জিপি) ও দুইজন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ঐক্য নামের ওই সংগঠনটি জুলাই বিপ্লবে আহত ও নিহত এবং শহীদ ওয়াসিম-এর স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য দুই লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগীতা চেয়ে আবেদনটি লেখা হয়। 


আবেদনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে পড়েছেন সুপারিশকারীরা। তাঁরা হলেন জিপি শামীম আহমদ সিদ্দিকী, পিপি বদরুল আহমদ চৌধুরী ও পিপি মো. আশিক উদ্দিন। 


দুইজন পিপি আবেদনপত্রে সুপারিশ করার সত্যতা সিলেট ভয়েসকে নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু সুপারিশ নেওয়ার পর জালিয়াতি করে আবেদনপত্রটি পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।


তারা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি আবেদনে সুপারিশ করেছেন। কিন্তু পরে এটিকে জালিয়াতি করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ঐক্য ও জেলা সাব-রেজিস্ট্রার লেখা হয়েছে। যা পরে তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। 


এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ বলেন, ‘এরকম কোনো আবেদন আমার কাছে আসেনি। অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। 


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিলেট জেলা সাব রেজিস্ট্রার বরাবরে একটি পত্রে লেখা ছিল, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ঐক্য (Bangladesh Nationalist Students' Alliance) এবছর ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে আমরা আহত ও নিহত শহীদদের সম্মানে এক স্মরণসভা, এতিম খানায় খাবার বিতরণ, জুলাই বিপ্লবের ছবি প্রদর্শনী এবং শহীদ ওয়াসিম-এর স্মৃতিচারণ সভার আয়োজন করতে যাচ্ছি।


অনুষ্ঠানটি সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে একটি ঐতিহাসিক স্মরণীয় দিনে পরিণত হবে। এ আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, ব্যানার, পোস্টার, খাবার, মঞ্চসজ্জা, মিডিয়া কাভারেজ এবং অন্যান্য খরচের জন্য অর্থের প্রয়োজন। সুতরাং উক্ত উদ্দেশ্যে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা অনুদান প্রদানের জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।


আবেদনটিতে স্বাক্ষর রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ঐক্য‘র সভাপতি মাহফুজুর রহমান নামে এক ব্যক্তির। আবেদনপত্রের নিচে সুপারিশ করেছেন জিপি শামীম আহমদ সিদ্দিকী, পিপি বদরুল আহমদ চৌধুরী ও পিপি আশিক উদ্দিন। 


এ বিষয়ে আবেদনকারী মাহফুজুর রহমানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যাযনি। আবেদনপত্রে ব্যবহৃত একটি মোবাইল নম্বরে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। 


এ ব্যাপারে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বদরুল আহমদ চৌধুরী সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘কিছু ছাত্র এসেছিল এরকম একটি অনুষ্ঠান করার জন্য। কিন্তু আবেদনপত্রটি ছিল জেলা প্রশাসক বরাবরে। বৈষম্যবিরোধী পরিচয় দেওয়ায় সহানুভূতি থেকে সুপারিশ করেছি। কিন্তু এখন দেখতেছি এটা জালিয়াতি করে জেলা সাব রেজিস্ট্রার লেখা হয়েছে।‘


তিনি আরও বলেন, ‘আর্থিক অনুদান দেওয়ার মতো সাব রেজিস্ট্রারের কোনো ফান্ড থাকে না। সুতরাং সাব-রেজিস্ট্রার বরাবরে আবেদন দেখলে কোনোভাবেই সুপারিশ করতাম না। জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন দেখে সুপারিশ করেছি। যে এই জালিয়াতি করেছে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। কিন্তু কোনোভাবে পাচ্ছি না।‘


সুপারিশের বিষয়টি স্বীকার করলেও আবেদনে আর্থিক অনুদান চাওয়া হয়েছে কী না তা জানেন না বলে জানিয়েছেন পিপি আশিক উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘১০-১২ জন ছাত্র অফিসে এসেছিল তারা একটা অনুষ্ঠান করার জন্য। আমার কাছে সহযোগীতা চায় নি। চাইলে দিয়ে দিতাম। তারা সুপারিশ করার জন্য বলেছে। পরে মহানগরের পিপির সুপারিশ দেখে আমিও সুপারিশ করেছি। কিন্তু আবেদনে দুই লাখ টাকা আর্থিক সহযোগীতা চাওয়ার লেখাটি আমি দেখিনি।‘


এ বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্র ঐক্য নামে আমাদের কোনো সংগঠন নেই। এসব ভুইফোঁড় সংগঠন। চাঁদাবাজির জন্য এরা নিজেদের এ ধরণের পরিচয় দিয়ে থাকে।‘


এ বিষয়ে সিলেট জেলা সাব-রেজিস্ট্রার মিনহাজ উদ্দিনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সাঁড়া দেননি। 


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

ভুঁইফোড় সংগঠন, চাঁদা দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার, আবেদন, পিপি, জিপি, জেলা প্রশাসক, বিএনপি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ