জাতিসংঘ ফোরামে অংশ নিতে কাল যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
রাজনীতি
প্রকাশঃ ২ মে, ২০২৬ ৯:২১ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে হবে এবং সবসময় মানুষের পাশে থাকতে হবে। মানুষ আজ আমাদের যে সাড়া দিচ্ছে, তা তাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
শনিবার (২ মে) বিকেলে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় নেতার্মীদের নিয়ে আয়োজিত কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম, প্রায় প্রত্যেক মানুষই আমাকে সাড়া দিচ্ছিলেন। আমি হাত নেড়েছি, তারাও হাত নেড়েছেন; আমি সালাম দিয়েছি, তারাও সালাম দিয়েছেন। এদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ। আমি যদি রাজনীতি না করতাম, তাহলে হয়তো এত মানুষ আমাকে চিনত না। এই মানুষগুলোর সঙ্গে আমাদের কোন ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। এ বিষয়গুলোকে বুঝতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের রাজনীতির ভাষা বুঝতে হবে। রাজনীতির চোখ দিয়েই রাজনীতিকে দেখতে হবে। আপনারা যখন মানুষের মধ্যে যান, তখন মানুষ আপনাদের ঘিরে ধরে এবং আপনাদের কথা শোনে। একজন নেতা যখন কোথাও দাঁড়িয়ে কথা বলেন, তখন অন্তত ১০-২০ জন মানুষ তা মনোযোগ দিয়ে শোনে-এটাই রাজনীতির শক্তি।'
অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, অতীতে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা-মন্ত্রী জনগণের মাঝে গেলে মানুষের তেমন আগ্রহ দেখা যেত না। এমনকি বড় সমাবেশেও মানুষকে ধরে রাখার চেষ্টা করা হতো। শেখ হাসিনা যখন স্টেডিয়ামে যখন বক্তব্য রাখতেন তখন মানুষ আটকে রাখার জন্য গেইট বন্ধ থাকতো। কারণ মানুষ তাদের কথা শুনতে চাইতো না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত কোনো সুবিধা চায় না; তারা চায় নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন। আইন-শৃঙ্খলা, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নই তাদের প্রধান প্রত্যাশা।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসীনা রুশদীর লুনা এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দীন মিলনসহ অন্যরা।
কর্মীসভায় সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দীর্ঘ ১৯ বছর পর ফের শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া অন্বেষণ প্রতিযোগীতা নতুন কুঁড়ি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) সিলেট জেলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর। তোমাদের ওপরই নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ। এজন্য তোমাদের পড়ালেখা যেমন করতে হবে, তেমনি খেলাধুলাও করতে হবে। নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।
শিশু-কিশোরদের দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তাদেরকেই অনুষ্ঠানের ‘চিফ গেস্ট’ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানের চিফ গেস্ট তোমরাই। তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে এই দেশ নেতৃত্ব পাবে, তোমরাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে।’
প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা এড়িয়ে সরাসরি শিশুদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেন। মাঠে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—অ্যারোবিকস, সাঁতার, দাবাসহ একাধিক ইভেন্ট—নিয়ে শিশুদের মতামত জানতে চান এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য করতালি দিতে বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শিশু ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যে খেলোয়াড় হতে চায় তাকে খেলোয়াড় হতে হবে, যে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা অন্য কিছু হতে চায় তাকে সেই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।
সিলেট স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়। এতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। এরপর ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ থিম সং প্রচার করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পড়তে হবে, আর খেলতে হবে। নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে। যে খেলোয়াড় হতে চায়, সে খেলোয়াড় হবে। একই সাথে যে গান শিখতে চায় সে গান শিখবে, যে মিউজিশিয়ান হতে চায় সে মিউজিশিয়ান হবে। সেই ব্যবস্থা আমরা ইনশাল্লাহ করব।
সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রধান অতিথি হিসেবে সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই গ্যালারিতে বসে থাকা ক্ষুদে শিক্ষার্থী সহ সারাদেশের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা, তোমরাই এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় প্রায় শেষ। এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব। বাংলাদেশকে তোমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তোমরা কী পারবে?’
এই সময়ে পুরো গ্যালারিতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা উচ্চ কন্ঠে বলেছে, ‘হ্যাঁ পারবো।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি তোমরা অবশ্যই সবাই পারবে ইনশাল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেককে গড়ে উঠতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তোমাদের উপরে। তোমরা যত ভালোভাবে সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশ তত সুন্দরভাবে শক্তিশালী ভিত্তির উপরে গড়ে উঠবে।’
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চিন্তা কীভাবে আসলো সেই গল্প তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আইডিয়াটা কেমন করে আসলো সেই গল্পটা আমি বলব। আজকে থেকে সাড়ে চার বছর হবে আগের কথা, আমিনুল গিয়েছিল লন্ডনে। একদিন আমরা বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম, আমিনুল স্পোর্টসের মানুষ, আমি স্পোর্টস নিয়ে আলাপ শুরু করলাম, স্পোর্টস নিয়ে আমরা কি কি করব? বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করলাম। আলাপ করতে করতে এক পর্যায়ে আমরা খাবার টেবিলে বসে ঠিক করলাম যে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করবো বাংলাদেশে।
বক্তব্যের শেষে সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ট্রফি ও লগো উন্মোচন করেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ক্রীড়া পরিদপ্তর। অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল আলম বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা, এম এ মালেক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সরকারি উধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী বাসিয়া নদী পুন:খনন কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই কৃষকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই কৃষকদের সহায়তা ও কৃষি খাতকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবেন এবং কৃষি উৎপাদন কার্যক্রম আরও সহজ হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষকদের সরকারি সহায়তা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে। এতে কৃষকেরা উৎপাদন কাজে আরও বেশি উপকৃত হবেন এবং দেশের কৃষি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। কৃষকদের সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করা সম্ভব নয়।
বাসিয়া নদী খনন পুন:কাজের আগে প্রধানমন্ত্রী শনিবার (০২ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন।
পরে সিটি করপোরেশনের আয়োজনে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের ৮০ শতাংশই থাকবেন নারী এবং তাঁরা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন করে নিয়োগ দেওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব হবে গ্রামে গ্রামে প্রতিটি ঘরে যাওয়া। শহরেও তারা থাকবে তবে আমরা জোর দিব গ্রামের দিকে। গ্রামে সংসার দেখাশোনা করার দায়িত্বে যারা থাকেন তাদেরকে গিয়ে সচেতন করতে কাজ করবে তারা।
কোন খাবারটি খেলে ডায়াবেটিস হবে না, কোন খাবারটি খেলে কার্ডিয়াক সমস্যা হবে না বা লাইফস্টাইল কি হলে তার হার্টের সমস্যা হবে না কোন খাবারটি খেলে কিডনির রোগ হবে বা হবে না এই বিষয়গুলি সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করবে স্বাস্থ্যকর্মীরা। সারাদেশে বেশি সংখ্যক মানুষকে যেভাবে সুস্থ রাখা যায় সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে খাল খননকে প্রধান উপায় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটে অল্প বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। অতিবৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন হাওর এলাকায় বিশেষ করে সুনামগঞ্জসহ অন্যান্য জেলায় বন্যায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে নগরের পানির বড় অংশই ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে, যার ফলে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু সিলেটে নয়, ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরেও দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্ষায় যে বিপুল পরিমাণ পানি আসে, তা ধরে রাখতে পারলে কৃষি ও নাগরিক জীবনে ব্যবহার করা যাবে। খাল খনন সেই সুযোগ তৈরি করবে।
নদী দূষণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য নদীতে জমে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে এবং পানি দূষিত হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর পানি অসম্ভব রকম বিষাক্ত হয়ে গেছে। এইভাবে যদি সবগুলো নদী বিষাক্ত হতে থাকে তাহলে একটা অসম্ভব ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। কাজেই এই বিষয়ে আমাদের মানুষকে সচেতন করতে হবে।
সিলেটসহ সবকটি সিটি করপোরেশনকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। যেমন প্লাস্টিক পলিথিন কাগজ বা যেকোনো বর্জ্য হোক না কেন এই জিনিসগুলো যাতে আমরা যত্রতত্র না ফেলি। এক্ষেত্রে বিশেষ করে সিটি করপোরেশন এলাকায় যতগুলো স্কুল আছে সেসব প্রতিষ্ঠানের শিশুদের এই এটা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হোক। কারণ, বড়রা শুনলেও সহজে শিখতে চায় না। কিন্তু যদি একটা ছোট বাচ্চাকে ভালো কিছু শেখান এটা তার মাথায় ঢুকে যায়। সে তার বাবা-মাকেও ওটা মানতে বাধ্য করবে।
সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি রেল যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন সরকারপ্রধান বলেন, শুধু সড়ক বড় করলেই হবে না, এতে যানবাহনের চাপ বাড়বে এবং কৃষিজমি কমে যাবে।
সড়ক যোগাযোগে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমি সিলেট এসেছিলাম বিমানে। কিন্তু যাওয়ার সময় সড়কপথে গিয়েছিলাম। সেদিন আমি বলেছিলাম যে সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব সাড়ে নয় ঘন্টা সময় লাগে। কিন্তু সড়কপথে সিলেট থেকে ঢাকা যেতে প্রায় ১০ ঘন্টা সময় লেগে যায়। নির্বাচনের সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সরকার গঠন করলে এই কাজটিতে দ্রুত হাত দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয়লেনে উন্নীতকরণ কাজে ১১টি স্থানে প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুততম সময় আমরা এই কাজটা শেষ করতে পারবো।
শুধুমাত্র সড়ক নয়, রেলওয়ে উন্নয়নের ওপরও জোর দিয়ে তিনি বলেন, শুধু সড়ক বড় করলেই যে সমস্যার সমাধান হবে তা না। একই সঙ্গে আমরা যদি রেল যোগাযোগ উন্নত করি তাহলে আমরা কম খরচে যাতায়াত করতে পারবো। কারণ রাস্তা যতই বড় করা হবে ততোই গাড়ি নামবে রাস্তায়। ট্রাফিক বাড়বেই।
একদিনের সফরে শনিবার সকাল ১০টার দিকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সিলেটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী পরে সেখান থেকে বৃষ্টি উপক্ষো করে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন তিনি। পরে সফরসূচি অনুযায়ী সকল কর্মসূচিতেই অংশ নেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান, সিলেট সফর