সিলেট অঞ্চলে বড় ধরনের পানি সংকট দেখা দিতে পারে: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
রাজনীতি
প্রকাশঃ ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:৩৩ অপরাহ্ন
সিলেট অঞ্চলে বড় ধরনের পানি সংকট মোকাবিলায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুকুর, খাল ও জলাশয় সংরক্ষণ এবং সারফেস ওয়াটার ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সিলেট জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পানি ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ডিপ টিউবওয়েল ও প্রোডাকশন টিউবওয়েলের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সিলেট অঞ্চলে মারাত্মক পানি সংকট দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, আমাদের মানুষকে ধীরে ধীরে এই ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা থেকে সরে আসতে হবে। বিকল্প হিসেবে পুকুর, খাল, দিঘি ও অন্যান্য সারফেস ওয়াটার সংরক্ষণ করে তা ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জলাশয়গুলোকে শুধু সংরক্ষণ করলেই হবে না, এগুলোকে পরিকল্পিতভাবে খনন, সংস্কার এবং চারপাশ সুরক্ষিত করে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে এসব পানি বিশুদ্ধ করে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করার ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের নীতিমালায় যেখানে জলাশয় রয়েছে, সেখানে তা ভরাট না করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক জায়গায় জলাশয় দখল ও ভরাটের চেষ্টা চলছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইনের বিধান অনুযায়ী দিঘি, খাল ও ছড়াগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে চলমান মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়ে এসব জলাশয় উদ্ধার করতে হবে।
তিনি সিলেট নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, অনেক দিঘি ও খাল এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে কিংবা দখলের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব জলাশয় পুনরুদ্ধার করে সংরক্ষণ করা গেলে তা পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি নগরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শহরের বড় বড় জলাশয়গুলোকে উন্মুক্ত করে সেখানে হাঁটার পথ, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো ও বিশুদ্ধ পানির সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে মানুষের জন্য যেমন বিনোদনের সুযোগ তৈরি হবে, তেমনি নিরাপদ পানির উৎসও নিশ্চিত হবে।
তিনি স্মরণ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খননের যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন, তা শুধু কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার একটি দূরদর্শী উদ্যোগ ছিল।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমানে অনেক এলাকায় পানিতে আয়রন ও আর্সেনিকের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধানে ভূগর্ভস্থ পানির বিকল্প হিসেবে সারফেস ওয়াটার ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
তিনি জেলা পরিষদকে এ বিষয়ে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জেলা পরিষদের অধীনে থাকা অসংখ্য পুকুর, খাল ও জলাশয়কে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখা সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে তিনি পানি সংরক্ষণকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্য শেষে পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আর্থিক অনুদান প্রদানের চেক বিতরণ করেন মন্ত্রী।
সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের সভাপতিত্বে ও পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপমা দাস ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামারুজ্জামান মাসুমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার সিংহ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিমসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
সিলেট, আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, মন্ত্রী