২১ এপ্রিল ২০২৬

রাজনীতি / সরকার

পরিকল্পিত উন্নয়ন না হলে ‘বসবাসের অযোগ্য’ হতে পারে সিলেট শহর: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:২৫ অপরাহ্ন

ছবিঃ বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

সিলেট সিটিকে একটি ‘ভাইব্রেন্ট’ বা প্রাণবন্ত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পরিকল্পিত অবকাঠামো ও আয়–সৃষ্টির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনই জলাবদ্ধতা ও অপরিকল্পিত নগরায়নের সমস্যা সমাধান না করা হলে আগামী এক দশকের মধ্যে শহরের অনেক নিচু এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সিলেট সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মন্ত্রী বলেন, একটি শহরকে প্রাণবন্ত করতে হলে অন্তত দুটি শর্ত পূরণ জরুরি উন্নত অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বিস্তার। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষের এই শহরে পরিকল্পিত উন্নয়ন সম্ভব হলেও অপরিকল্পিত বসতি বাড়তে থাকলে কোনো পরিকল্পনাই কার্যকর হবে না। ৫০০ বাসার জায়গায় যদি ২০টি করে নতুন বাসা গড়ে ওঠে, তাহলে পানি, স্যানিটেশন বা অন্যান্য অবকাঠামোর পরিকল্পনা ভেঙে পড়বে।

জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, এটি শুধু সাময়িক ভোগান্তি নয় দীর্ঘমেয়াদে এটি বড় সংকটে রূপ নিতে পারে। আজকে একদিনের বৃষ্টির পানি যদি ১৫ দিনেও না নামে, তাহলে সেটি কোনো টেকসই পরিস্থিতি নয়। এ জন্য উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিকল্পিত সড়ক অবকাঠামোর ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, শহরের বাইরে শিল্প ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এতে প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সিলেটে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

নগরে খোলা জায়গা ও বিনোদন সুবিধার অভাবের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরবাসীর জন্য উন্মুক্ত স্থান ও বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, যা আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রকল্পের শিরোনাম, ব্যয়, মেয়াদ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তথ্য বোর্ড আকারে প্রদর্শন করা উচিত। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করলে অপচয় ও অনিয়ম কমানো সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, বাণিজ্যমন্ত্রী, খন্দকার মুক্তাদির, সিসিক, মতবিনিময়

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ