০৪ মে ২০২৬

দৈনন্দিন

প্রথম ধাপে সিলেট বিভাগের একটি ওয়ার্ডে ‘ফ্যামেলি কার্ড’ পাচ্ছেন ৬৯৭ পরিবার

প্রশান্ত সাগর দাস, দিরাই, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৯ মার্চ, ২০২৬ ১১:৩০ অপরাহ্ন

ছবিঃ নমুনা ছবি

বিএনপির সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামীকাল সিলেটের ৬৯৭ টি পরিবার পাচ্ছে ফ্যামেলি কার্ড। তবে কিছু সুবিধাভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও কাগজপত্র আপডেট না থাকায় প্রথম দিনে ৫১৯ জনকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে।


পাইলট প্রকল্প হিসেবে সিলেট বিভাগের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম পরিচালিত হতে যাচ্ছে। এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির এমপি।


পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালু করছে সরকার। কর্মসূচির প্রথম ধাপে সারাদেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ৩৭ হাজার ৫৬৪টি নারী প্রধান পরিবার এই কার্ড পাবে।


আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ মার্চ) প্রথমেই রাজধানীতে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই দিনই সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আকিলশাহ, রাধানগর ও উত্তর সুরিয়ারপাড়—এই তিন গ্রামের ৬৯৭ টি পরিবারের কাছে কার্ড বিতরণ করা হবে। 


এদিকে, এরই লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। উদ্বোধনের দিনই সুবিধাভোগীদের মোবাইল ফোনে পৌঁছে যাবে প্রথম মাসের প্রথম মাসের নগদ সহায়তা। সরকার ঘোষিত এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানকে সুবিধাভোগীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করেছে। 


দিরাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাব্বির সারোয়ার জানান, আমরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ওর্য়াডের তিনটি গ্রামের মাঠ জরিপ করে ৯৭৮ টি খানার হিসাব পাঠানো হয়েছে। পরে ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) কাজের তদারকি করে ৬৯৭ টি পরিবারকে তালিকাভুক্ত করেন। 


এ বিষয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ছুফি মিয়া বলেন, সমাজসেবা অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জরিপ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬৯৭ জনকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তবে এখনও তালিকাভুক্তদের নামের তালিকা হাতে পাইনি।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিব সরকার জানান, ‘কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আকিল শাহ, রাধানগর, উত্তর সুরিয়ারপাড়—এই তিনটি গ্রামের জন্য ঢাকায় পাঠানো তালিকা থেকে ৬৯৭টি কার্ড অনুমোদন হয়েছে। তবে কিছু সুবিধাভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও কাগজপত্র আপডেট না থাকায় আপাতত ৫১৯ জনকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে।’


ইউএনও আরও বলেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট, শিল্প মন্ত্রনালয় মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি উপস্থিত থেকে আগামীকাল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে জেলার পাঁচজন সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি। 


এর আগে সোমবার (৯ মার্চ) ফ্যামেলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্টের ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়ায় উপকারভোগী নির্বাচনে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।


তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারকে একটি আধুনিক স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন (কন্ট্যাক্টলেস) চিপযুক্ত এই কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।


মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।


তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পান সেক্ষেত্রে সেই সব বিদ্যমান সুবিধা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অন্য ভাতা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। 


জাহিদ হোসেন আরও বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে কোনো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হতে বেতন-ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী হিসেবে চাকরিরত থাকলে ওই পরিবার ভাতাপ্রাপ্তির যোগ্য বিবেচিত হবে না।


মন্ত্রী বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জুন-২০২৬ সময়ের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা (৬৬.০৬ শতাংশ) সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা (৩৩.৯৪ শতাংশ) কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন, কার্ড প্রস্তুতি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হবে। 


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

ফ্যামেলি কার্ড, সিলেট বিভাগ, সুনামগঞ্জ, কুলঞ্জ ইউনিয়ন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ