
মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে স্থানীয় ও জাতীয় বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য সরাসরি ও নমনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সমতা ও ন্যায্য অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন উন্নয়নকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সোমবার সিলেট নগরের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেলে অনুষ্ঠিত এক আঞ্চলিক সেমিনারে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সেমিনারের আয়োজন করে এফোর্টস ফর রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট (ইরা) ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে একটি জটিল মানবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় ও জাতীয় সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই প্রথম সাড়া দানকারী হিসেবে কাজ করে। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা থাকায় তারা দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা দিতে সক্ষম।
তবে বক্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্থানীয়করণ নীতির বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে স্থানীয় সংস্থাগুলোর কাছে সরাসরি অর্থায়নের সুযোগ এখনও সীমিত। অধিকাংশ অর্থ আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বিভিন্ন স্তরের মাধ্যমে প্রবাহিত হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লাগে এবং প্রশাসনিক ব্যয়ও বেড়ে যায়।
সেমিনারে উপস্থাপিত অবস্থানপত্রে বলা হয়, বর্তমান ব্যবস্থায় স্থানীয় সংস্থাগুলোকে অনেক সময় কেবল বাস্তবায়নকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিকল্পনায় তাদের ভূমিকা সীমিত থাকে। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগও কমে যায়।
বক্তারা আরও বলেন, মানবিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ঝুঁকির বড় অংশ স্থানীয় সংস্থাগুলোর ওপরই বর্তায়। কিন্তু সেই ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বা সহায়তা সব সময় তারা পায় না। এতে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে তারা নানা ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক সমস্যার মুখে পড়ে।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সংস্থাগুলোর জন্য সরাসরি ও নমনীয় অর্থায়ন বৃদ্ধি, বহুবর্ষী অর্থায়নের ব্যবস্থা, পরোক্ষ ব্যয় বা প্রশাসনিক ব্যয় নিশ্চিত করা, স্থানীয় উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে বিশেষ অর্থায়ন তহবিল গঠন এবং সরকার, দাতা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমতা ভিত্তিক ঝুঁকি ভাগাভাগির নীতি প্রণয়ন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাকে টেকসই ও কার্যকর করতে হলে স্থানীয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বয় ব্যবস্থায় স্থানীয় সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।
এসময় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী। এসসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মাল্টিজার ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর কীর্তি, ফুড ফর দ্যা হাঙরির কান্ট্রি ডিরেক্টর বুলি হাগিডক, ইউনোস্কোর হেড অব সাইন্স খালিদ বিন মাসুদ, হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর উপদেষ্ঠা মোহাম্মদ শাহজেদ, এফআইডিবির কো অর্ডিনেটর হাসান আহমেদ চৌধুরী, ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর মো. মতিউর রহমান।
শেয়ার করুনঃ
দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন
সিলেট, সেমিনার, এফোর্টস ফর রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট


