০৪ মে ২০২৬

দৈনন্দিন

হবিগঞ্জের মাহদী হাসানের সঙ্গে দিল্লিতে ঠিক কী হয়েছিল?

সিলেট ভয়েস ডেস্ক

প্রকাশঃ ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৯:৩০ অপরাহ্ন

ছবিঃ মাহদী হাসান

বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান-কে ঘিরে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছে। গেল বুধবার বিকেলে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে উঠে আসে দিল্লিতে ঠিক কী হয়েছিল হবিগঞ্জের মাহদী হাসানের সাথে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মাস খানেক আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ থানায় বসে মাহদী হাসান ওসি আবুল কালামকে হুমকি দিচ্ছেন এবং বলছেন তারা বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছেন এবং এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে জ্বালিয়ে দিয়েছেন। এই বক্তব্যের পর জানুয়ারিতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সমর্থকদের বিক্ষোভের পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

সম্প্রতি তিনি পর্তুগালের ভিসা নিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি-তে যান। বাংলাদেশের নাগরিকদের পর্তুগালের ভিসার জন্য দিল্লিতে আবেদন করতে হয়। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কনট প্লেসের একটি ভিসা প্রসেসিং সেন্টারে তাকে দেখা যায়। তার সঙ্গে এক নারী আত্মীয় ছিলেন। তারা নিউ দিল্লি রেল স্টেশনের কাছে পাহাড়গঞ্জ এলাকার একটি হোটেলে ওঠেন।

ভিসা সেন্টারে অপেক্ষার সময় কেউ তাকে চিনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এরপর তার কাছে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে একাধিক অজানা নম্বর থেকে ফোন আসতে শুরু করে। দুটি পৃথক সূত্র জানিয়েছে, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তার ওপর নজরদারি শুরু করেন।

দুপুরের দিকে বাংলাদেশ থেকে কেউ তাকে জানান যে তিনি চিহ্নিত হয়েছেন। এরপর তিনি পুরোনো দিল্লির কয়েকটি এলাকায় যান এবং থাকার জায়গা খোঁজেন। পরে পাহাড়গঞ্জের হোটেল ছেড়ে বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি হোটেলে ওঠেন মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। একই রাতে তাকে দিল্লি-ঢাকা রুটের ইন্ডিগো ফ্লাইটের টিকিট দেওয়া হয়।

একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতেই তার ভারতীয় ভিসা বাতিল করা হয়। তবে তিনি তা আগে জানতে পারেননি।

বুধবার সকালে তিনি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ যান। নিরাপত্তা চেকিংয়ের সময় তাকে আলাদা করে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রায় আধঘণ্টা ধরে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা তাকে জেরা করেন। দুটি সূত্র জানিয়েছে, তাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়নি।

সূত্রগুলোর মতে, তাকে জানানো হয় তিনি ভারতবিরোধী কথা বলেছেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার দাবি করেছেন এবং একজন হিন্দু কর্মকর্তাকে হত্যার দাবি বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এসব কারণে তাকে ভারতে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না।

তার কাছে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের ইন্ডিগো ফ্লাইটের টিকিট ছিল। তিনি সেই ফ্লাইটে দিল্লি থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন।

বাংলাদেশে ফিরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তাকে ‘হ্যারাস’ করা হয়েছে এবং তিনি “লাইফ রিস্কে” ছিলেন। ক্রিপ্টোকারেন্সি বহনের অভিযোগকে তিনি গুজব বলে উল্লেখ করেন। ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানান তিনি।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

হবিগঞ্জ, মাহদী হাসান, দিল্লি, বাংলাদেশ, ভারত

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ