জঙ্গি আতঙ্কে বিদেশি কূটনৈতিক মিশনে নিরাপত্তা জোরদার
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৯:৫৬ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার হবিবপুর আশিঘর (শাহবাড়ি) এলাকার বাসিন্দা, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শাহ মো. বুরহান উদ্দিন শফির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় হবিবপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন শান্তিনগর পয়েন্টে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নেন।
অধ্যক্ষ মাওলানা মুহিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সুনামগঞ্জ জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহিম শাহীনের সঞ্চালনায় আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ আবু হোরায়রা ছাদ, শিক্ষানুরাগী নজরুল ইসলাম হিরা, হাজী হারুনুজ্জামান, সমাজসেবক আবুল হোসেন, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সুনু মিয়া ও মাসুম আহমদ, যুক্তরাজ্যের কমিউনিটি নেতা আলহাজ মন্তাজ আলী, মিফতা মিয়া ও আলিফ মিয়া।
বক্তারা জানান, এই হত্যাকাণ্ড কোনো তাৎক্ষণিক ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা। রহান উদ্দিন শফি একজন ভালো মনের, ভদ্র ও বিনয়ী মানুষ ছিলেন এবং তার কোনো অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিন্দুমাত্র রেকর্ড নেই।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রশাসনকে এই ঘটনায় কোনো প্রকার গাফিলতি করা চলবে না। অনতিবিলম্বে খুনিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে হবিবপুর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
নিহত শফির ছোট ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী সুলমান উদ্দিন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তার ভাই অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন এবং কোনো ধরনের অপরাধের সাথে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, প্রবাসীরা দেশে এসে নিয়মিত খুন ও হামলার শিকার হচ্ছেন। নিজ মাতৃভূমিতে এসে আর যেন কোনো প্রবাসীকে এমন নির্মম পরিণতির শিকার হতে না হয়। তিনি সরকার ও প্রশাসনের কাছে ভাই হত্যার দ্রুত বিচার ও ঘাতকদের উপযুক্ত শাস্তির জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি সপরিবারে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন শাহ মো. বুরহান উদ্দিন শফি। ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে কুলাউড়াগামী পথে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। চার দিন পর, ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের কোনারবন্দ হাওর থেকে তাঁর অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সিলেট, মানববন্ধন, জগন্নাথপুর, সফি হত্যার প্রতিবাদ