সিলেটে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১১ মে, ২০২৫ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে ইনাতনগর বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তার দুরত্ব এক কিলোমিটারের চেয়েও কিছুটা বেশি। 'ইনাতনগর রোড' নামে পরিচিত এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন চলাচল করেন পশ্চিম পাগলার ইনাতনগর, চন্দ্রপুর, কাঁদিপুর ও রসুলপুর গ্রামের অন্তত ৭ হাজার মানুষ। এই পথ ব্যবহার করেই জেলা শহর সুনামগঞ্জ, বিভাগীয় শহর সিলেট কিংবা রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করতে হয় ৪ গ্রামের বাসিন্দাদের।
ইনাতনগর বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইনাতনগর হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসা ও ইনাতনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের রোগীদের আসা যাওয়ার প্রধান সড়কও এটি। এছাড়া ইনাতনগর গ্রামের পূর্ব দিকে অবস্থিত বরকুল হাওরের বুরো ফসল ঘরে তোলার একমাত্র যাতায়াত মাধ্যম হওয়ায় চরম ঝুঁকি নিয়ে ফসলের গাড়ি যাতায়াত করে এই সড়কে।
তবে চার গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান সড়কটি পাকাকরণের পর থেকে এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় দিন দিন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে সড়কটি।
সড়কের বেশ কয়েকটি জায়গায় পাটাতন ভেঙে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া সড়কের দু'পাশের মাটি সরে যাওয়ায় বেশ কিছু অংশ বিলীন হওয়ার অবস্থা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন এই সড়ক ব্যবহারকারী বাসিন্দারা। সড়কের বেহাল দশার কারণে বিভিন্ন সময় ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুর্ভোগ নিরসনে সংস্কার কাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিভিন্ন সময়ে দাবি জানিয়ে আসলেও তা কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ ছিল।
এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই এলাকার বাসিন্দারা। সড়কের এই বেহাল দশা থেকে পরিত্রান পেতে দ্রুত সড়কটির সংস্কার ও সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, ২০০৮ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডির) সহায়তায় ইনাতনগর সড়কের পাকাকরণের কাজ সম্পন্ন হয়। পাকাকরণের কয়েক বছর পর সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন ও সড়কের দু'পাশের মাটি সরে যায়। এরপর ২০২০ সাল, ২০২২ সাল ও ২০২৪ সালের বন্যায় সড়কটি ডুবে যাওয়ায় ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করে। এতে এই সড়কে চলাচলকারী রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য যান চলাচলে সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। দূর্ঘটনার ঝূঁকি নিয়ে চালক ও পথচারীরা যাতায়াত করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইনাতনগর গ্রামীণ সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে পাকা ঢালাই ভেঙে গেছে। কোথাও সড়কের অর্ধেক পাকা ঢালাই ভেঙে খালে পতিত হয়েছে। সড়কের শুরুর কালভার্ট থেকে কবরস্থান পর্যন্ত এবং ফজলু মিয়ার বাড়ির সামন থেকে ইনাতনগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত স্থানের দুইপাশের বেশিরভাগ জায়গায় মাটি ধসে যাওয়ার কারণে খুব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে সড়কটি। এতে যাতায়াতের সময় দূর্ঘটনার আশংকা কাজ করছে পথচারীদের মাঝে।
ভুক্তভোগী ইনাতনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ ও ফজলু মিয়া বলেন, এ রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। গাড়ি নষ্ট হয়ে হয়ে যাওয়ার ভয়ে এই সড়কে প্রায়সময় রিকশা, সিএনজি প্রবেশ করতে চায় না। যদি অতি দ্রুত এই সড়ক সংস্কার না করা হয় তাহলে অচিরেই এই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
রিকশাচালক ফয়জুদ্দিন, আব্দুল্লাহ ও রুশন আলী বলেন, ইনাতনগর রোডের অবস্থা খুবই শোচনীয়। ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় চলাচলের ফলে রিকশার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ইচ্ছা না থাকলেও পেটের দায়ে ঝুঁকি নিয়েও আমাদের রিকশা চালাতে হয়। এরপরও কোনো যাত্রী একবার রিকশায় যাতায়াত করলে কানাকন্দের ঝাঁকুনিতে শরীর ব্যথা করে বলে পরেরবার রিকশায় উঠতে চায় না। তাড়াতাড়ি সড়কের কাজ হওয়া দরকার।
এই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী আহমদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির স্থায়ী ও দীর্ঘ মেয়াদি উন্নয়ন সংস্কারের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। বড় কোন বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার কাজ করতে পারছিনা। আমরা সড়কটি সংস্কার কাজের জন্য এলজিইডি অফিসসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও গিয়েছি অনেকবার। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ আমাদের দুঃখ দুর্দশার কথা চিন্তা করে সড়ক সংস্কারের কাজে এগিয়ে আসবেন।’
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার বলেন, ‘এই রাস্তাটি এলজিইজির আওতাধীন এবং পরিমানেও অনেক বেশি। আমার কাছে যে বরাদ্দ আসে তা একেবারেই কম। ইউনিয়ন পরিষদের স্বল্প বাজেট থেকে গতবছরের শুরুতে অল্প কিছু জায়গায় ভাঙ্গা অংশ সংস্কার করেছিলাম। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় সড়কের সংস্কারের জন্য আবেদন করেছি। বিগত সরকারের সাবেক মন্ত্রী এম এ মান্নান সাহেবের কাছেও একাধিকবার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ চাইলে এই কাজটি করে দিতে পারেন। ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দের পরিমাণ খুব কম থাকার কারণে আমার দ্বারা এই সড়কের সংস্কার সম্ভব হয়ে উঠছে না।’
শান্তিগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সাজেদুল আলম বলেন, ‘ছোট বড় সব ভাঙন সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। ছোট ছোট সমস্যাগুলোর কাজ খুব দ্রুতই শুরু হবে। বড় কাজগুলো করতে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি সেগুলোও হয়ে যাবে।’
ইনাতনগর রোড, শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট সড়ক, ভাঙাচোরা, দুর্ভোগ, ৪ গ্রামের মানুষের