সুনামগঞ্জের ৫০০ পরিবারে মধ্যে ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ সরকারের
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২২ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:২৫ অপরাহ্ন
শুক্রবারের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে সারাদেশ। হতাহত হয়েছেন বহু মানুষ, ধসে পড়েছে ভবন, দেবে গেছে রাস্তা। সেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সুনামগঞ্জেও। জেলার বিভিন্ন স্থানে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি টের পেয়ে। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা গেছে সুনামগঞ্জ পৌর বিপণিতে যে ভবনটি এক দশক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল।
আশির দশকে নির্মিত এই ভবনটি কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই তৈরি করা হয়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রকৌশল বিভাগ বছর দশেক আগে ভবনটিকে ‘সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে। সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের তালিকাতেও এটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত।
তবু এসব সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পৌর কর্তৃপক্ষ তৃতীয় তলায় নতুন স্থাপনার অনুমতি দিয়ে যাচ্ছে। শুরুতে হাতে গোনা কয়েকটি টিনশেডের অনুমতি থাকলেও সম্প্রতি পুরো ছাদজুড়েই স্থাপনা নির্মাণের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ একটি পরিবহন সংগঠনকেও তৃতীয় তলায় কার্যালয় নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে ভবনে আরও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার সকাল ১১টার ভূমিকম্পে পুরো মার্কেট দুলে ওঠে। বিভিন্ন কক্ষের জিনিসপত্র ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। সেদিন মার্কেট বন্ধ থাকায় বড় ধরনের ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মার্কেটে আসা ক্রেতা সুজন মিয়া বলেন, আমি ওই সময় দোতলায় ছিলাম। দেখি পুরো ভবন দুলছে। মনে হচ্ছিল ভেঙে পড়বে। এরকম ভবনে নতুন স্থাপনার অনুমতি কীভাবে দেয়, তা বোঝার বাইরে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালীকৃষ্ণ পাল বলেন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিবেদনে বহু আগেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে। ভবনটি সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ। শুক্রবার মার্কেট বন্ধ থাকায় এখনো ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়নি। নতুন করে ভবন নির্মাণের বিষয়ে পৌরসভা ভাবছে।
সুনামগঞ্জ, পৌর মার্কেট, ভূমিকম্প, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়