০৫ মে ২০২৬

দৈনন্দিন

ছাতকে নতুন পিআইও নিয়োগ, অবসান ঘটছে অচলাবস্থার

প্রতিনিধি, ছাতক, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২১ নভেম্বর, ২০২৫ ৩:১৯ অপরাহ্ন


দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও শূন্যতার অবসান ঘটিয়ে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় অবশেষে নতুন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০ নভেম্বর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ প্রশাসন শাখার উপসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে ছাতকের নতুন পিআইও হিসেবে পদায়ন করা হয়।


এরমধ্য দিয়ে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বের অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। একই প্রজ্ঞাপনে আটজন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়েছে। ছাতকে সদ্য পদায়ন পাওয়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম এর নিজ জেলা টাঙ্গাইল। তিনি ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর থেকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় পিআইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।


এর আগে ছাতক উপজেলার সাবেক পিআইও কে.এম. মাহবুবুর রহমানকে ঘিরে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণেই এ পদটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ছাতকে যোগদানের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও এডিপির বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে লাখ লাখ টাকা ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের ২২৭টি প্রকল্পের বিপরীতে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সামনে এলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগও দাখিল করেন। এরপর ১৬ মে ইউএনও অভিযুক্ত পিআইওকে সতর্ক করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রকল্পে কোনো ধরনের ঘুষ সহ্য করা হবে না। সেই সময় পিআইও কার্যালয়ের কার্য সহকারী নাজমুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।


অভিযোগ রয়েছে, ইউএনওর সাথে বাকবিতণ্ডার পরদিন ১৭ মে পিআইও মাহবুবুর রহমান অফিসে অনুপস্থিত থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যান। তিন দিনের ছুটির একটি আবেদন তিনি ইউএনওর কাছে জমা না দিয়ে নিজের টেবিলে রেখে অফিস ত্যাগ করেন। তাঁর এই আকস্মিক অনুপস্থিতিতে প্রকল্প কমিটির সদস্যরা কাজ সম্পন্ন করেও বিলের অর্থ না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন—যা নিয়ে সে সময় জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়।


পরবর্তীতে, ২৬ মে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপসচিব তাসনুভা নাশতারান স্বাক্ষরিত এক আদেশে মাহবুবুর রহমানকে শাস্তিমূলকভাবে ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলায় বদলি করা হয়। আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, ২ জুনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করলে তাঁকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ (তাৎক্ষণিক অব্যাহতি) হিসেবে গণ্য করা হবে। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ আড়াল করতে সাবেক পিআইও মাহবুবুর রহমান উল্টো ইউএনওকে দায়ী করে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করেন। এমনকি, দুর্নীতির সাক্ষী তাৎকালিন কার্য সহকারী নাজমুল ইসলামকে ছাতক থেকে রাঙামাটির দুর্গম বিলাইছড়িতে বদলি করানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।


সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান ডিও বলেন, ’পদায়ন বিষয়ে এখনো কোনো চিঠি পাইনি। সাধারণত মন্ত্রণালয়ের পিআইও পদায়নের আদেশ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত থাকে, কিন্তু এ আদেশটি ওয়েবসাইটেও নেই। রোববার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে।’


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

ছাতক, পিআইও, পদায়ন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ