জামালগঞ্জে টিনের বান্ডিল পড়ে যুবকের মৃত্যু, আহত ৩
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১০ নভেম্বর, ২০২৫ ৬:৫৩ অপরাহ্ন
টনসিলের ব্যাথা থেকে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গণ্ডবপুর গ্রামের দিনমজুর হিরন মিয়া। তাকে বাঁচাতে ব্যয় বহুল চিকিৎসা করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে হিরন মিয়ার পরিবার।
এখন অর্থাভাবে আটকে আছে তার চিকিৎসা। অসহায় এই পরিবারটি সমাজের বিত্তশালীদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে।
হিরন মিয়ার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে গলাতে টনসিলের সমস্যা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে টনসিলটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। প্রথমে তাকে ভর্তি করা হয় জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে নেওয়া হয় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসা চলতে থাকলেও মুখের অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে মুখের ভেতরে ক্যান্সার ধরা পড়ে।
হিরন মিয়ার স্ত্রী আফিয়া বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী একজন দিনমজুর। আঘাত পাওয়ার পর মুখ ফুলতে শুরু করে। ডাক্তাররা অপারেশন করার কথা বলেছেন। কিন্তু এরপর মুখের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এখন মুখের ভেতর অনেকটা বড় হয়ে গেছে। খাওয়ানো যাচ্ছে না, শুধু ভাতের মার আর সুজি খাওয়ানো হয়।’
তিনি বলেন, আমাদের কিছু জায়গা জমি ছিল, ‘সব বিক্রি করে দিয়েছি। ঋণ করেছি, সুদের টাকাও তুলেছি। এখন এক টাকাও হাতে নেই। অপারেশন করানোর টাকা নেই আমাদের। আমরা সবার সাহায্য সহযোগিতা চাচ্ছি।’
হিরন মিয়ার বড় ছেলে দিনমজুর নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নিজেও একজন দিনমজুর। বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমাদের যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েছি। ডাক্তার বলেছেন উন্নত চিকিৎসা দরকার। তার জন্য অন্তত ১ লক্ষ টাকা দরকার। এ টাকা যোগাড় করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। তাই চিকিৎসাও বন্ধ হয়ে গেছে।’
এলাকার তরুণ সৌদি প্রবাসী সমাজ সেবক হাফিজ মিয়া জানান, আমরা কিছু সহযোগিতা করেছি। তবে এই সাহায্য যথেষ্ট নয়। দেশবাসী যদি এগিয়ে আসে, তাহলে হয়তো হিরন মিয়া জীবন রক্ষা করা সম্ভব।’
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার বিলাল হোসেন বলেন, ‘সাহায্যের জন্য হিরন মিয়ার পরিবার আমাদের কাছে আবেদন করলে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে।’
দিনমজুর, ক্যান্সার আক্রান্ত