২৩ এপ্রিল ২০২৬

দৈনন্দিন / গ্রামবাংলা

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

৩ বছর ধরে বিকল এক্স-রে মেশিন, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৫ মে, ২০২৫ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

ছবিঃ জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

তিন বছর ধরে বিকল হয়ে আছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা রোগীদের। এমনকি হাসপাতালে এক্স-রে না থাকায় বাধ্য হয়ে বাহিরে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের অসহায় মানুষজনকে এই সেবা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

 

তাছাড়া এর আগে দীর্ঘদিন বাক্সবন্দি থাকার ২০২১ সালে চালু করা হয় এক্স-রে মেশিনটি। বছর না ঘুরতেই ২০২২ সালে বিকল হয়ে যায় এই মেশিনটি। মেরামত করে কবে চালু হতে পারে তা সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেন নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপিত হয়। ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটি ২০০৭ সালে  ৫১ শয্যায় উন্নতিকরণ করা হয়। যেখানে ২০০৫ সালে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এক্স-রে মেশিন দেয়া হয়। সে সময় বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ সমস্যার কারণে মেশিনটি চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ কয়েকবছর বাক্সবন্দি থাকার পর ২০২১ সালে ফের এক্স-রে মেশিন চালু করা হয়। বছর না পেরোতেই ২০২২ সালে এক্স-রে মেশিনে ত্রুটি দেখা দিলে বন্ধ হয়ে যায় কার্যক্রম। 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৩ বছরের বেশি সময় ধরে এক্স-রে মেশিন সচল না থাকায় সরকারের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। ফলে তাদেরকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বেসরকারী বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে সেবাগ্রহণ করতে হচ্ছে।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা আলাল মিয়ার নামের এক ভুক্তভোগি বলেন, আমার ছেলের হাতে  চোট লেগেছে। ডাক্তার বলেছেন, এক্স-রে লাগবে। হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন নষ্ট, তাই বাহির থেকে করে আনতে হবে। পরে ৫০০ টা দিয়ে একটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে এক্স/রে রিপোর্ট আনতে হয়েছে।

 

নাজমা বেগম নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, বেশকিছুদিন ধরে বুকের সমস্যা করছিল। বিনামূল্য হাসপাতালে এক্স-রে করা যায় শুনে এসেছিলাম। দুর্ভাগ্য এক্স-রে যন্ত্র নষ্ট থাকায় বাহির থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কাজ করতে হয়েছে।

 

হাসপাতালের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর, নোংড়া ও অপরিচ্ছন্ন। পুরুষ ও মহিলা ওয়াডের রোগীদের অভিযোগ, পুরুষ ও মহিলা ওয়াডগুলোতে দুর্গন্ধ। প্রায়ই ময়লা জমে আছে। সপ্তাহে একদিন ঝাড়ু দেওয়া হয় কি না সংশয়ে  আছেন তারা। টয়লেটে বেসিনের পাইপ ভাঙ্গা। এতে ময়লা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। রোগীদের সেবা প্রদানের থেকে বেশি সময় নার্সরা মোবাইল ফোনও আড্ডায় মেতে থাকেন। এমনতি রোগীরা ডাকলে রোগীদের সাথে বাগবিতন্ডা বা রাগও করেন বলে অভিযোগ তুলেন রোগী ও তার আত্মীয় স্বজনরা।

 

জগন্নাথপুর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ডাঃ মধুসুধন ধর থাকতে আমরা ভালো সেবা পেয়েছি। হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছিল। উনি না থাকায় সব এলো মেলো হয়ে গেছে।  

 

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক ডা. তামজিদ হোসাইনের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। এসময় ডা. তামজিদ হোসাইন বলেন, এক্স-রে মেশিনের ব্যাটারি ও সফটওয়ার জনিত কিছু সমস্যা থাকায় চালু হচ্ছে না। 

 

কবে এটি যন্ত্রটি চালু হতে পারে জানতে চাইলে ডা. তামজিদ বলেন, ধারণা করছি এবছর হতে পারে। আমরা এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করেছি। দ্রুতই এ বিষয়ে সমাধান হবে। 

 

ডা. আরও বলেন, এখানে বুকের এক্স-রে করাতে কোন টাকা নেয়া হয়না। অন্য সব এক্স-রে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকার ভিতরে করতে পারেন রোগিরা।


জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক পরিষদের আহ্ববায়ক এমএ কাদির বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলায় প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসবাস। এখানকার সরকারী হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন তিন বছরের বেশি সময় ধরে অকেজো হয়ে আছে। রোগীদের খাবারের মানও ভালো নেই। যে কারণে একদিকে যেমন চিকিৎসা নিতে আসা রোগিরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্টদের নিকট দাবী জানাই, জনসাধারণ কথায় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত মেরামত করে এক্স-রে মেশিন টি সচল করার জন্য।

 

এব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রঞ্জন রায় বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন এসেছি। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি বিদেশী এক্সপার্ট ছাড়া মেরামত করা যাচ্ছে না। আমরা উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করছি।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ