২৩ এপ্রিল ২০২৬

দৈনন্দিন / গ্রামবাংলা

শান্তিগঞ্জের পাগলা-বীরগাঁও সড়কে ফের ভাঙন, দুর্ভোগ

প্রতিনিধি, শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৪ মে, ২০২৫ ৮:৫৫ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের পাগলা বাজার থেকে বীরগাঁও বাজার পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটারের সড়কটি হচ্ছে সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ সারা দেশের সাথে পুরো ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের প্রধান ও একমাত্র সড়ক। প্রতিদিন এ সড়কে স্থানীয় যানবাহনসহ শতাধিক সিএনজি ও অটোরিকশা চলাচল করে। কিন্তু সড়কটিতে অন্তত ২০টি জায়গায় ছোটবড় ভাঙনে সড়কের বেহাল চিত্র ফুটে উঠেছে। 


সরেজমিনে দেখা গেছে, পাগলা-বীরগাঁও সড়কের ব্রাহ্মণগাঁও অংশে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের প্রাক্তন ইউপি সদস্য নূরুল হকের বাড়ির সামনে থেকে ভাঙনের শুরু হয়। ছোট ছোট ভাঙা অংশে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের অংশ শেষ হলেও পূর্ব বীরগাঁওয়ের বড়ভাঙা নামক স্থান থেকে শুরু হয় রাস্তাটির বড় বড় ভাঙা অংশ। বিশেষ করে আমান আলীর বাড়ির সামনের ভাঙা অংশ বেশ বড়। ছোট বড় প্রায় ২০টি ভাঙন আছে এ সড়কে। অন্তত ৮টি স্থানে রয়ে অনেক বড় ধরণের ভাঙন। কোনো কোনো স্থানে অর্ধেকের বেশি সড়ক ভেঙে গিয়েছে।


এ নিয়ে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন পাগলা-বীরগাঁওয়ের সাধারণ জনগণ ও পরিবহণ শ্রমিকেরা। তাছাড়া বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা চলছে৷ পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে এসে এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন। রাস্তা ভাঙাচোরা থাকার কারণে পরীক্ষার্থীদের বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 


এদিকে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে গত মাসের ৯ এপ্রিল সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বরাবর একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী।


স্মারকলিপিতে এলাকাবাসী জানান, গেল ৩ বছরে পাগলা বাজার থেকে বীরগাঁও বাজার পর্যন্ত রাস্তায় দুই দফা সংস্কার কাজ করা হলেও নিম্নমানের কাজ আর হাওরের ঢেউয়ের কারণে প্রতিবছরই রাস্তায় ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। পাগলা-বীরগাঁও রাস্তাটি উত্তর খালপাড় নিবাসী আমানের বাড়ি থেকে বীরগাঁও লাউয়া নদীর সেতু পর্যন্ত গাড়ি চলাচলে একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চলতি বছর যে হারে রাস্তাটি ভাঙতে শুরু করেছে তাতে বীরগাঁওয়ের সাথে পাগলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায়, রাস্তাটি বর্ষা আসার আগেই অতীব জরুরী ভিত্তিতে মেরামত না করলে এলাকাবাসী চরম দূর্ভোগে পড়বে। পত্রে রাস্তার ভেঙে পড়া অংশ দ্রুত মেরামতের দাবি করেন এলাকাবাসী।


তারা জানান, রাস্তার পাখিমারা অংশে যদি গার্ডওয়াল না দেওয়া হয় তাহলে সড়কটিকে টিকিয়ে রাখা যাবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব গার্ডওয়ালসহ রাস্তাটি পুননির্মাণ করতে হবে।


পরিবহণ শ্রমিক নেতা ও সিএনজি চালক ছৈয়দুর রহমান বলেন, 'আমরা এ সড়কে নিয়মিত গাড়ি চালাই। প্রতিদিন অন্তত দেড়শ’ সিএনজি এই সড়কে চলে। একটি সিএনজি দাঁড়িয়ে থেকে আরেকটি সিএনজিকে পার হতে হয়। ভাঙতে ভাঙতে রাস্তার মাঝখান অতিক্রম করেছে। সংস্কার ছাড়া এভাবে চলতে থাকলে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়বে। 


পূর্ব বীরগাঁও ইউপি সদস্য জোবায়ের আহমদ বলেন, রাস্তাটি পাখিমারা হাওড়ের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে। বর্ষাকালে পানিতে টইটুম্বুর থাকে হাওর। পাখিমারার বিশাল বড় বড় ঢেউ এসে আঁচড়ে পরে রাস্তায় বা রাস্তার ধারে। এতে রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি হয় বেশি। যদিও রাস্তাটি দু’এক বছর আগে সংস্কার করা হয়েছে। আমি মনে করি, রাস্তার সংস্কার কাজ টিকিয়ে রাখতে হলে পাখিমারা অংশে গার্ডওয়াল নির্মাণ প্রয়োজন। না হলে কোনোভাবেই রাস্তা টিকানো যাবে না। যদি এবছর রাস্তা সংস্কার না হয় পাগলার সাথে বীরগাঁওয়ের সড়কপথ বন্ধ হয়ে যাবে। এসময় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সড়ক সংস্কার ও রাস্তার পাশ দিয়ে গার্ডওয়াল নির্মাণের জোর দাবি জানান তিনি। 


পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সলিব নূর বাচ্ছু বলেন, রাস্তার বেহাল দশা হয়েছে, যাতায়াতে ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি। আশা করছি আমাদের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগ নিবেন।


সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, সীমিত বরাদ্দের কারণে জেলার সব উপজেলায় চাহিদামতো কাজ করতে পারছি না। সব উপজেলায় সড়ক সংস্কার ও নির্মাণে গত বাজেটে মাত্র ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। এতে কাজ করা অনেক কঠিন হয়ে উঠেছে। 


তিনি বলেন, আমরা অনেকগুলো সড়কের সংস্কারের জন্য আবেদন পাঠিয়েছি। তবে পাগলা-বীরগাঁও সড়কটি সে তালিকায় আপাতত নেই। আমরা শীঘ্রই আবেদন জানাবো। তবে আগামী বর্ষার আগে কোন বরাদ্দ পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় ও অনিশ্চয়তায় কথা জানান এই প্রকৌশলী।




শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

শান্তিগঞ্জ, পাগলা-বীরগাঁও সড়ক, ভাঙাচোরা, বেহাল, সংস্কার

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ