অপরিপক্ব লিচুতে সয়লাব সিলেটের বাজার, চড়া দামে বিক্রি
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৬ নভেম্বর, ২০২৫ ৫:০১ অপরাহ্ন
ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেসে যাত্রী আন্দোলনের মুখে মৌলভীবাজারের জন্য বাড়তি ৬০টি আসন বরাদ্দ দিয়েছে রেলওয়ে। কিন্তু পাশের জেলা হবিগঞ্জ, ২৪ লাখ মানুষের এই জনপদ এবারও রইল পুরোপুরি বঞ্চিত।
দীর্ঘদিন ধরেই সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী ট্রেনগুলোতে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ জংশনের তুলনায় মৌলভীবাজারের স্টেশনগুলোতে আসন সংখ্যা বেশি। তবু এবারের বরাদ্দেও সেই বৈষম্য আরও বেড়েছে, যা রেলপথে যাতায়াতকারী হবিগঞ্জের যাত্রীদের হতাশ করেছে।
ঢাকাগামী সকালের কালনী এক্সপ্রেসে শায়েস্তাগঞ্জের জন্য তিনটি এসি কেবিনসহ আসন আছে মাত্র ৫৩টি। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে ৬৪, পারাবত এক্সপ্রেসে ৩০ এবং উপবন এক্সপ্রেসে ৫০টি আসন বরাদ্দ থাকলেও কোনোটিতেই এসি কেবিন নেই।
অন্যদিকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল স্টেশনে কালনীতে ছয়টি এসি কেবিনসহ ১৪৯টি, জয়ন্তিকায় ১১৫, পারাবতে ১৮টি এসি কেবিনসহ ১৬১টি এবং উপবনে ১৩৫টি আসন বরাদ্দ আছে, যা শায়েস্তাগঞ্জের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
সিলেট–চট্টগ্রাম রুটেও একই চিত্র। পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে শায়েস্তাগঞ্জের জন্য তিনটি এসি কেবিনসহ আসন ৪৪টি, উদয়ন এক্সপ্রেসে মাত্র ৪০টি শোভন চেয়ার, তাও এসি ছাড়াই। সেখানে মৌলভীবাজারের দুটি স্টেশনে পাহাড়িকায় ৬৯টি ও উদয়নে ৫০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে।
সম্প্রতি রেলওয়েতে টিকিট সংখ্যা বৃদ্ধি ও সুবিধাবঞ্চনার প্রতিবাদে যাত্রী আন্দোলনের পর ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেসে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ২০টি এবং কুলাউড়ায় ৪০টি আসন বাড়ানো হয়েছে, একটি অতিরিক্ত বগি সংযোজন করে। কিন্তু সেই তালিকায় হবিগঞ্জের নাম নেই। এতে জেলার যাত্রীদের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
শায়েস্তাগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সাজেদুর রহমান বলেন, আমরা প্রতিনয়ত ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় যাই। কিন্তু টিকিট না পেয়ে বাসে যেতে হয়, সময় ও খরচ দুটোই বাড়ে। মৌলভীবাজারে যখন বগি বাড়ছে, তখন হবিগঞ্জের মানুষ কেন বঞ্চিত হবে।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের কলেজছাত্রী মাহমুদা আক্তার লিমা বলেন, ঢাকায় ক্লাস করতে যেতে হয়, কিন্তু টিকিট না পাওয়া আমাদের জন্য বড় ভোগান্তি। ভোরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট মেলে না। হবিগঞ্জের শিক্ষার্থীরা যেন ট্রেন ব্যবস্থায় সুবিধা পায়, সেটা এখন সময়ের দাবি।”
শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি মঈনুল হাসান রতন বলেন, “হবিগঞ্জকে বঞ্চিত রেখে মৌলভীবাজারে আসন বাড়ানো আমাদের গভীরভাবে আহত করেছে। শায়েস্তাগঞ্জ জংশনের জন্য আমরা অন্তত ৩৫০টি আসন দাবি করছি। এ বিষয়ে রেল ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সিলেট রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম জানান, আন্দোলনের ফলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল স্টেশনের জন্য ২ টি অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে সিলেট থেকে যাওয়া ট্রেনগুলোতে আরও ৬০ টি আসন বেড়েছে।
হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ট্রেন, রেল, আসন