অপরিপক্ব লিচুতে সয়লাব সিলেটের বাজার, চড়া দামে বিক্রি
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১ নভেম্বর, ২০২৫ ৫:০৭ অপরাহ্ন
বোনকে লন্ডন পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন হারুন মিয়া। শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রাইভেটকারে সিলেট শহরে যাচ্ছিলেন তারা। কথা ছিলো বোনের আইইএলটিএস পরীক্ষার পর ছোট মেয়েকে নিয়ে যাবেন মায়ের সঙ্গে দেখা করাতে। হারুন মিয়া নিজেই চালাচ্ছিলেন প্রাইভেটকারটি। সঙ্গে ছিলো তার বড় মেয়ে আনিসা (৮)।
জানা যায়, হারুন মিয়ার স্ত্রী ছোট মেয়েকে নিয়ে থাকেন বাবার বাড়িতে। বড় মেয়েকে দেখতে চেয়েছিলেন তার স্ত্রী। তাই মার সঙ্গে দেখাতে করাতে বড়মেয়ে আনিসাকে সঙ্গে নিয়েছিলেন হারুনঅ। এ সময় হারুনের সঙ্গে ছিলেন, তিন বোন রাইমা বেগম, মুন্নি বেগম, পান্না বেগম ও ভগ্নিপতি মুকিত মিয়া।
যাত্রাপথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাসটি কেড়ে নিল হারুন মিয়া ও তার বড় মেয়ে আনিসার প্রাণ। এ সময় প্রাইভেট কারটি দুমড়ে মুছড়ে যায়। এতে গুরুতর আহত হন তিন বোন ও ভগ্নিপতি।
নিহত হারুন মিয়ার মামা দবির মিয়া বলেন, ‘আমার ভাগ্নে তার বড় মেয়ে আনিছা ও তার ৩ বোন ও ভাগ্নিপতিকে নিয়ে প্রাইভেটকারযোগে সিলেট যাচ্ছিলেন। তার বোনের আইইএলটিএস পরীক্ষার জন্য তারা যাচ্ছিলেন। যাবার পথে হবিগঞ্জি বাসের সরাসরি সংঘর্ষ লেগে বাবা মেয়ে দুইজন মারা যান। অন্যরা গুরুতর আহত হয়েছেন।’
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। নিহতদের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হারুনের মৃত্যুর সংবাদ গ্রামে পৌছলে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল আহমদ বলেন, ‘হারুন অত্যান্ত বিনয়ী নম্র ভদ্র একটি ছেলে ছিল। তার পিতা শফিক মিয়া ৮০ দশকের জগন্নাথপুর এবং বালাগঞ্জ উপজেলার অত্যন্ত সুপরিচিত সুনামধন্য তারকা ফুটবলার ছিলেন। তার পিতাও অল্প বয়সে মারা যান। তার পিতার পথ ধরেই সে এভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে কল্পনাও করিনি। আমি তার মৃত্যুতে গভীর শোক এবং দুঃখ প্রকাশ করছি। আল্লাহ পাক যেন তার পরিবারকে এই শোক সইবার ক্ষমতা দান করেন। আল্লাহ যেন তাকে ও তার মেয়েকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন আমিন।’
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রশিদ সরকার বলেন, ‘বাস ও প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
এর আগে শনিবার সাড়ে ৮টায় সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাস ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-মেয়েসহ দুইজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।
ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে হবিগঞ্জগামী একটি বিরতিহীন যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৪৬৪৭) এর সঙ্গে সিলেটগামী যাত্রীবাহী প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ ১২-৪৮৫৫) মুখোমুখি এ সংঘর্ষ হয়।
ওসমানীনগর, বাবা-মেয়ে, নিহত, মায়ের সঙ্গে, দেখা হলো, না, মেয়ের