০৫ মে ২০২৬

দৈনন্দিন

সিসা দূষণ রোধে এখনই পদক্ষেপ জরুরি: সিলেটে সচেতনতা সপ্তাহ পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ১০:১১ অপরাহ্ন


কোনও মাত্রাই নিরাপদ নয়, সিসা দূষণ বন্ধে কাজ করার এখনই সময়’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটে পালিত হলো আন্তর্জাতিক সিসা দূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহ।


শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে চৌহাট্টা পর্যন্ত র‌্যালি ও মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করে ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও পিওর আর্থ বাংলাদেশ। ইউনিসেফের সহায়তায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অর্ধ শতাধিক অংশগ্রহণকারী ছিলেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি ও ইয়ুথনেটের স্বেচ্ছাসেবীরা।

অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল সিসা দূষণবিরোধী ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন। রাস্তাজুড়ে শোনা যায় স্লোগান—‘সিসা দূষণ বন্ধ হলে, বাড়বে শিশু বুদ্ধি-বলে।’ এ সময় পথচারীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়।

র‌্যালি শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সিসা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে, প্রাপ্তবয়স্কদের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় এবং গর্ভবতী নারীদের জটিলতার কারণ হয়ে ওঠে। তাঁরা সিসাযুক্ত পণ্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন ও কার্যকর নজরদারির দাবি জানান।

ইয়ুথনেট গ্লোবালের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী নাজমুন নাহিদ বলেন, আমাদের মাটি, পানি ও বায়ুতে সিসার উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। অবৈধ ব্যাটারি রিসাইক্লিং বন্ধ ও ভোক্তাপণ্যে সিসার মান নির্ধারণ ছাড়া এর কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিশুরই নিরাপদ ও দূষণমুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার আছে। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছাড়া সিসা দূষণ রোধে স্থায়ী পরিবর্তন আসবে না।”

ইয়ুথনেট সিলেটের সমন্বয়ক নাজির আহমদ বলেন, সিসা দূষণ রোধে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকেও সচেতনতার নেতৃত্ব নিতে হবে।

কর্মসূচির শেষে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়, সিসাকে জাতীয় পর্যায়ে “বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য” হিসেবে তালিকাভুক্ত ও “Hazardous Substance” হিসেবে ঘোষণা করা, সারা দেশে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের রক্তে সিসার মাত্রা নির্ধারণে জাতীয় জরিপ চালানো, খেলনা, রং, মসলা, অ্যালুমিনিয়াম বাসন ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্যে সিসার উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ শিশু উচ্চমাত্রার সিসা বিষক্রিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এর ফলে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা হ্রাস, হৃদরোগে মৃত্যু এবং দেশের জিডিপিতে বছরে ৬ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সিসা দূষণ প্রতিরোধ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ