প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সিলেটে উৎসবের আমেজ
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৯:৩৯ অপরাহ্ন
সিলেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ নগরবাসী। এ অবস্থায় তীব্র গরমে নগরজুড়ে হাঁসফাঁস অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এক দিকে তীব্র গরম অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংকট, যা নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।
এদিকে প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের এমন বিপর্যয়ে রীতিমতো অতিষ্ঠ দিন পার করছেন নগরের বাসিন্দারা। এ অবস্থায় বিদ্যুতের চাহিদা বেশি ও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ সংকটের কারণকেই উল্লেখ করছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ সংকটের কারণে দিনে-রাতে একাধিকবার লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে সংকট কিছুটা কমতে পারে।
পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে বিদ্যুতের চাহিদা এখন ৪০ মেগাওয়াটেরও বেশি। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ মিলছে মাত্র ২৫ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিনই ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) আম্বরখানা সাবস্টেশনে ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। একইসঙ্গে শেখঘাট সাবস্টেশনে ৯ মেগাওয়াট এবং লাক্কাতরা সাবস্টেশনে মাত্র ৩ দশমিক ৩ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়েছে।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন অফিস-আদালত ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবীরা। বিশেষ করে দুপুর বেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস-আদালতে কাজের ব্যাঘাত ঘটছে। এতে হাজার হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এসব ব্যবসায়ীরা।
তাছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে বিপাকে রয়েছেন শিশু, শিক্ষার্থী ও গৃহীনীরাও। রাতের বেলা এবং ভোরের দিকে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমের ব্যাঘাতের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।
আম্বরখানার মঈন কমপ্লেক্সে একটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবী হেলাল উদ্দিন সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘তীব্র গরম ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে কয়েকদিন ধরে ঠিকঠাকমতো অফিসের কাজ করতে পারছি না। আর অসহনীয় গরমতো আছেই। অনেক সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে হাত দেওয়া মাত্রই বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।’
মিলন উদ্দিন নামে চৌখীদেখীর এক বাসিন্দা জানান, ‘প্রায় প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। এতে তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা তাদের। তাছাড়া ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ঘরে থাকাও অসম্ভব বলে জানান তিনি।’
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামস-ই আরেফিন সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে কী কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে তা বলা সম্ভব নয়। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম হচ্ছে। ফলে নগরবাসীর চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সররাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এটি কতদিন থাকবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না। জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ হলে এ সংকট কমে যাবে।’
বিদ্যুৎ বিভ্রাট, সিলেট, বিদ্যুৎ সংকট, ভোগান্তি