০৪ মে ২০২৬

দৈনন্দিন

দিরাইয়ে বিএনপির কমিটিতে ‘আ.লীগ সংশ্লিষ্টদের’ পুনর্বাসনের অভিযোগ

প্রতিনিধি, দিরাই, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২ আগস্ট, ২০২৫ ৬:৪৮ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত কমিটিতে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় নেতারা।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) জগদল ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের পক্ষে মো. মুক্তাদির, মতি মিয়া ও নুরুজ্জামান দলটির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন মিলন এবং সাক্ষরক্ষমতা প্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, জগদল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত সমুজ মিয়া অতীতে আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে এলাকায় পরিচিত এবং বিতর্কিত ছিলেন। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে তার আবেদন জানুয়ারি মাসে জেলা কমিটির বৈঠকে রাজনৈতিক অতীত ও দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে বাতিল করা হয়েছিল। একইসঙ্গে বাতিল হয় রশিদ আহমদ বাচ্চু ও সুজাত আহমদ চৌধুরীর আবেদনও।

জেলা বিএনপির ১৬টি ইউনিটের কমিটি গঠনের আগে যাচাই-বাছাইয়ে যেসব প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হয়, তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ এবং দলটির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠে—যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

অভিযোগকারীরা অভিযোগে বলেন, সেই সমুজ মিয়াকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া জেলা ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অবজ্ঞা এবং সাংগঠনিক নীতিমালার লঙ্ঘন। তারা আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত কোনো দলীয় কর্মসূচিতে সমুজ মিয়াকে দেখা যায়নি। বরং অতীতে আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এই পরিস্থিতির জন্য দিরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক কবির মিয়াকে দায়ী করেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের অভিযোগ, এই দুই নেতার প্রত্যক্ষ সহায়তায় বিতর্কিতদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। তাদের মতে, পূর্বে বাদ পড়া সমুজ মিয়া, রশিদ আহমদ বাচ্চু ও সুজাত আহমদ চৌধুরী সম্প্রতি বিএনপির সভা-সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করছেন এবং মঞ্চে অবস্থান করছেন, যা দলীয় নির্দেশনার পরিপন্থী।

অভিযোগে যুগ্ম আহ্বায়ক কবির মিয়াকে নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বলা হয়, তিনি নিজেও একজন বিতর্কিত ব্যক্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নেতারা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কবির মিয়ার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী—যিনি রাজনীতিতে আগে সক্রিয় ছিলেন না—তাকেও উপজেলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা সমুজ মিয়াকে আহ্বায়ক পদ থেকে অপসারণ, অভিযোগের তদন্ত এবং গ্রহণযোগ্য কাউকে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের অনুলিপি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকেও পাঠানো হয়েছে।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

দিরাই উপজেলা, বিএনপি কমিটি, বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, দিরাইয়ের রাজনৈতিক খবর, আওয়ামী লীগপন্থীদের পুনর্বাসন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ