প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সিলেটে উৎসবের আমেজ
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২৩ জুলাই, ২০২৫ ১১:১৪ অপরাহ্ন
সিলেট মহানগরীর ক্রমবর্ধমান বর্জ্য সমস্যা সমাধানে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) এবার নীতিগত কাঠামো তৈরির পথে এগোচ্ছে। নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে বুধবার (২৩ জুলাই) নগরভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সিসিকের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, “সিলেট নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টন বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে। প্রায় ১ লক্ষ হোল্ডিং এবং ১০ লক্ষ জনসংখ্যার এই নগরের বর্জ্য অপসারণ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য একটি নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।”
তিনি জানান, সিসিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি নির্দিষ্ট ও আধুনিক নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যার মাধ্যমে নাগরিকদের মতামত গ্রহণ করে নীতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে গণতান্ত্রিক এবং অংশগ্রহণমূলক করা হবে।
তিনি বলেন, “নগরবাসীকে সম্পৃক্ত না করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তাই আমরা প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিচ্ছি এবং নীতিমালায় সেই অভিমত প্রতিফলিত হবে।”
সভায় সিসিক সচিব মো. আশিক নূরের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন বেসরকারি সংস্থা এসএনভি’র ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর রহিমা বেগম।
তাঁর প্রেজেন্টেশনে উল্লেখ করা হয়, সিলেট নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা এখনও অনেকাংশেই অনিয়মিত, এবং এটি পরিবেশ দূষণের অন্যতম উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সভা সঞ্চালনায় ছিলেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন।
সভায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং নগরের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর প্রতি সিসিকের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। তাঁরা বলেন, শুধু বর্জ্য অপসারণ নয়, বরং এর উৎস নিয়ন্ত্রণ, আলাদা করে সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার, কম্পোস্টিং এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোকে নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সহধর্মিণী ও সমাজসেবিকা শামা হক চৌধুরী, সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ইমজা সিলেট'র সভাপতি আশরাফুল কবির, সাধারণ সম্পাদক সাকিব আহমদ মিঠু, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলজার আহমদ হেলাল, কলামিস্ট ও সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, দৈনিক মানবজমিনের সিলেট ব্যুরো প্রধান ওয়েছ খসরু, সমকালের সিলেট প্রতিনিধি ফয়সল আহমদ বাবলু, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি নাজমুল কবির পাভেল, বেলা'র বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আক্তার, অ্যাডভোকেট অরূপ শ্যাম বাপ্পী, ধরিত্রি রক্ষায় আমরা (ধরা)’র সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম, সিলেট ভয়েসের প্রকাশক রোটারিয়ান সেলীনা আক্তার চৌধুরী, এফআইভিডিবি'র সমন্বয়ক হাসান চৌধুরী, পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিকী, হাউজিং এস্টেট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুছ মাসুম প্রমুখ।
সিলেট, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, সিসিক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সিলেট নগরী,