হাউসবোট ও নৌ-শ্রমিকদের হাতাহাতি, নদীতে পড়ে যুবকের মৃত্যু
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২৩ জুলাই, ২০২৫ ১২:৫৭ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের জন্মশতবার্ষিকী আজ, বুধবার (২৩ জুলাই)। ১৯২৫ সালের এই দিনে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
তাজউদ্দীন আহমদের শততম জন্মবার্ষিকী ঘিরে তার পরিবার বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তাঁর হাতে আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন তাজউদ্দীনের মেয়ে লেখক শারমিন আহমদ এবং ছেলে সাবেক প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।
তাজউদ্দীন আহমদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৯৬৬ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যুগল নেতৃত্বে তিনি দলকে সংগঠিত করেন এবং দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে গিয়ে শরণার্থী শিবিরে থেকে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকার গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। স্বাধীনতার পর তিনি বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত। এরপর নানা রাজনৈতিক মতপার্থক্যে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ান।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর তৎকালীন সামরিক সরকার তাজউদ্দীন আহমদকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখে। একই বছর ৩ নভেম্বর জেলখানায় তাঁকে জাতীয় চার নেতার অন্য তিনজন — সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর সঙ্গে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
তাজউদ্দীন আহমদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টি ও নেতৃত্বের গুণাবলি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। তাঁর জন্মশতবার্ষিকীতে বিভিন্ন মহল তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে।
তাজউদ্দীন আহমদ, প্রথম প্রধানমন্ত্রী, জন্মশতবার্ষিকী,