সুনামগঞ্জে আর্জেন্টিনার ১২০ হাত লম্বা পতাকা ছিঁড়ে ফেলায় সমর্থকদের ক্ষোভ
খেলাধুলা-বিনোদন
প্রকাশঃ ১০ জুন, ২০২৬ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসর শুরু হতে আর ৪৮ ঘণ্টাও বাকি নেই। ঠিক এমন সময়ে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে গোল করেছেন লিওনেল মেসি, করিয়েছেনও একটি গোলের পথ তৈরি। তার উপস্থিতিতেই শেষ মুহূর্তে আরও প্রাণ পায় আলবিসেলেস্তেদের আক্রমণভাগ। আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশনের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
আজ (বুধবার) যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার জর্ডান-হারে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনার। বল দখলে ৬৩ শতাংশ সময় এগিয়ে থাকা দলটি ১৫টি শট নেয়, যার ৭টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে আইসল্যান্ডের ৬টি প্রচেষ্টার মাত্র একটি লক্ষ্যভেদ করতে পেরেছিল।
বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল মেসির শারীরিক অবস্থা। ইন্টার মায়ামিতে খেলার সময় পাওয়া চোটের কারণে তাঁকে নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে স্কালোনির আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে আর্জেন্টিনা। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে জিওভান্নি লো সেলসোর ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে গোল করেন ভ্যালেন্টিন বার্কো। বক্সের মধ্যে কয়েকজন খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে বল তার সামনে এলে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন তরুণ এই ডিফেন্ডার। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তার দ্বিতীয় গোল।
গোলের পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে আর্জেন্টিনা। হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ, লাউতারো মার্টিনেজ ও জুলিয়ানো সিমিওনে একের পর এক আক্রমণ সাজালেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেননি। অন্যদিকে আইসল্যান্ডও কয়েকটি পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালায়, তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র। বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণের ধার দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল স্কালোনির দল। তবে গোলের দেখা মিলছিল না। ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে দর্শকদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাঠে নামেন মেসি। তার নামার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যায় আর্জেন্টিনার আক্রমণের গতি।
মাঠে নেমেই একটি রক্ষণচেরা পাসে লাউতারো মার্টিনেজকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন মেসি। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর আগমুহূর্তে আইসল্যান্ডের গোলরক্ষকের ফাউলের শিকার হন মার্টিনেজ। ফলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা।
৭৯তম মিনিটে স্পট কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি মেসি। নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় বোঝা যায়, ম্যাচে মাত্র কয়েক মিনিট খেলেও কীভাবে নিজের ছাপ রেখে যেতে হয়।
গোলের পরও থামেননি মেসি। আক্রমণ সাজানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে তার শুরু করা আক্রমণ থেকেই আসে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল। মেসির পাস ধরে রদ্রিগো ডি পল বক্সের মধ্যে বল বাড়িয়ে দেন থিয়াগো আলমাদার দিকে। আলমাদা আলতো স্পর্শে বল জালে পাঠিয়ে আইসল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন।
শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে এমন দাপুটে পারফরম্যান্স স্কালোনির দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মেসির ফিটনেস ও কার্যকারিতা নিয়ে যে প্রশ্ন ছিল, এই ম্যাচের পর তার অনেকটাই দূর হয়েছে।
আগামী ১৭ জুন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। তার আগে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া এই জয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা।
লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনা বনাম আইসল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ৩-০ আইসল্যান্ড, মেসির গোল, বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচ, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬