শ্রীমঙ্গলে নবদম্পতিকে ‘অকটেন’ দিলেন বন্ধুরা
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১৯ জুলাই, ২০২৫ ৯:২৫ অপরাহ্ন
সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের প্রথম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তুরাব স্মৃতি পদক প্রদান করা হয়েছে।
প্রথমবারের ‘তুরাব স্মৃতি পদক’ পেয়েছেন দৈনিক সিলেটের ডাকের সিনিয়র রিপোর্টার ও সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ কাউসার চৌধুরী এবং বিশেষ বিবেচনায় কালের কন্ঠের আলোকচিত্র সাংবাদিক ও ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আশকার আমিন ইবনে লস্কর রাব্বী।
শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনুর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে শহীদ সাংবাদিক তুরাব স্মরণে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভা, পদক প্রদান ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন—শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাব জীবন দিয়ে সাংবাদিক সমাজ ও দেশের সামনে যে দায় রেখে গেছেন, তার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমাদের কঠোর দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে। তার হত্যার বিচার নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা সহ্য করা হবে না।
সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবিরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. রেজাউল করিম পিপিএম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি ও প্রেসক্লাবের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
ড. সাজেদুল করিম বলেন, ’ফ্যাসিবাদের নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতেই তুরাবরা জীবন দিয়েছেন। এই আত্মত্যাগ ইতিহাসে লেখা থাকবে। স্মৃতি পদকের মাধ্যমে তুরাবকে স্মরণ করা প্রশংসনীয় উদ্যোগ।’
এসএমপি কমিশনার রেজাউল করিম বলেন, ’সাংবাদিক তুরাব হত্যাকাণ্ড আমাদের পুলিশ বাহিনীর জন্যও লজ্জার বিষয়। বিচার যেন ব্যাহত না হয়, তা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। সিএনজি চালক শনাক্তসহ ব্যালাস্টিক পরীক্ষাও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘তুরাবের বিচার চাইলে মাঠে নামতে হবে, গঠন করতে হবে আইনজীবীদের একটি শক্তিশালী প্যানেল। পাশাপাশি সিলেট সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুরাবের স্মৃতি পৌঁছে দিতে হবে।’
আলোচনায় অংশ নেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি খালেদ আহমদ, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বদর, নয়া দিগন্তের ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার, প্রভাতবেলা সম্পাদক কবীর আহমদ সোহেল, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় সভাপতি নাজমুল কবীর পাভেল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সিলেটের সাধারণ সস্পাদক সাকিব আহমদ মিঠু এবং দৈনিক জালালাবাদের প্রধান প্রতিবেদক আহবাব মোস্তফা খান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট এসএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) সজিব খান, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক, নারী উদ্যোক্তা রোটারিয়ান সেলীনা চৌধুরীসহ বিভিন্ন সাংবাদিক, পেশাজীবী ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন প্রেসক্লাবের পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক কবির আহমদ। শেষে শহীদ তুরাবের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ক্লাবের নির্বাহী সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক।
সিলেট, সিলেট প্রেসক্লাব, এটিএম তুরাব, তুরাব স্মৃতি পদক, জুলাই অভ্যুত্থান