জগন্নাথপুরে উপবৃত্তির প্রলোভনে মাদরাসাছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১৪ জুলাই, ২০২৫ ৩:৫৫ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষক মো. ঝুটন মিয়াকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে কোনো লিখিত কারণ ছাড়া, এমন অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় শিক্ষক সমাজ ও অভিভাবকমহল। দাবি করা হচ্ছে, তাঁকে দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য আর্থিক প্রাপ্য ছাড়াই বিদায় জানানো হয়েছে।
২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারি শিক্ষক হিসেবে যোগদানকারী ঝুটন মিয়া বলেন, দশ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে শিক্ষকতা করার পর চলতি বছরের ৩০ জুন গভর্নিং বডির একতরফা সিদ্ধান্তে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। অথচ তাঁর দাবি, এই অব্যাহতির পেছনে কোনো লিখিত কারণ দেখানো হয়নি। বরং পরবর্তীতে তাঁর নিয়োগপত্রে কৌশলে পরিবর্তন এনে ‘অস্থায়ী’ প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে তিনি উৎসব ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পিএফ ফান্ডসহ সকল প্রকার আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ঝুটনের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, লায়েছ ভূঁইয়া কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির আয় উৎস যথেষ্ট বৈচিত্র্যময় ও বড় পরিসরের গরুর হাট, একাধিক পুকুর ও প্রবাসীদের অনুদান মিলিয়ে বার্ষিক আয় লাখ টাকারও বেশি। তবে এত আয়ের পরও শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়া হয় না এবং কোনো বোর্ড সভা ছাড়াই বেতন নির্ধারণ ও বিতরণ করা হয়। এতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে গভর্নিং বডির ভূমিকা নিয়ে।
তিনি আরও দাবি করেন, এই স্বেচ্ছাচারিতার পেছনে আছেন এক প্রভাবশালী ব্যক্তি পুলিশের সাবেক ডিআইজি ও আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি আব্দুল বাতেন। তাঁর পরোক্ষ প্রভাবেই গভর্নিং বডি পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঝুটন মিয়া মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি চাকরিচ্যুতির ঘটনার পূর্ণ তদন্ত, সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং গভর্নিং বডি বিলুপ্ত করে নির্বাচনপদ্ধতিতে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ এবং সুশাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'তিনি (ঝুটন মিয়া) একজন অস্থায়ী শিক্ষক। তাঁর কোনো বৈধ নিয়োগপত্র বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। তিনি কেবল জুন মাসের বেতন পাবেন, সেটার জন্য আমি বলে দিয়েছি। এছাড়া তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন।'
এ বিষয়ে মধ্যনগর ইউএনও উজ্জ্বল রায় বলেন, 'আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ, অব্যাহতি, চাকরিচ্যুত