০৪ মে ২০২৬

দৈনন্দিন

সড়কবাতি নষ্ট, জগন্নাথপুরে বেড়েছে অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতা

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ১৩ জুলাই, ২০২৫ ১০:০৮ অপরাহ্ন




সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার অধিকাংশ সড়কে সড়কবাতি নেই, আর যেগুলো আছে, তারও বেশিরভাগ নষ্ট। ফলে সন্ধ্যা নামলেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে যায় পুরো শহর। এতে চুরি, ছিনতাই ও মাদক সেবনের মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন পৌরবাসী।

১৯৯৯ সালে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পৌরসভায় উন্নীত হওয়া জগন্নাথপুর ২০২৩ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় পরিণত হয়। কিন্তু দীর্ঘ ২৫ বছরেও কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা মেলেনি। ৯টি ওয়ার্ড ও প্রায় ২৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৌরসভাটির জনসংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি হলেও নিরাপদ পানির মতো মৌলিক সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত এখানকার মানুষ।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শহরের কিছু অংশে হাতেগোনা কয়েকটি সড়কবাতি থাকলেও অধিকাংশ পাড়া-মহল্লায় সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে আসে। এসব সড়কে হাঁটতে গিয়ে প্রায়ই ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। বাজারের পাহারাদারদেরও অভিযোগ, টর্চলাইট হাতে নিয়ে পাহারা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

পৌরসভার বাসিন্দারা বলছেন, পৌরসভার শুরুতে ৫০০টি সড়কবাতি স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ১ হাজারের মতো বলা হলেও বাস্তবে জ্বলে মাত্র ২০০টি বাতি।

পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসুদেববাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুবল দেব বলেন, ‘আমাদের এলাকায় ৬-৭ বছর আগে কয়েকটি ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়েছিল। এক বছরের মধ্যেই প্রায় সব বাতি নষ্ট হয়ে যায়। এখন অন্ধকারে আতঙ্ক নিয়ে চলতে হয়। অথচ আমাদের কর দিতে হচ্ছে ঠিকই।’

১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সালাম মিয়া জানান, তাঁদের এলাকায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি বাতিও জ্বলে না। সন্ধ্যার পর চুরি-ছিনতাই ও মাদকসেবীদের উৎপাত বাড়ে।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের আশিষ দেব বলেন, 'দোকানপাট বন্ধ হলে পুরো এলাকা অন্ধকারে ছেয়ে যায়। কয়েকজন ব্যবসায়ী নিজেদের দোকানের সামনে বাতি জ্বালিয়ে রাখেন শুধু নিরাপত্তার জন্য।'

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর পৌরসভার প্রকৌশলী সতীশ গোস্বামী বলেন, ‘আমাদের পৌরসভায় প্রায় ১ হাজার সড়কবাতি লাগানো আছে। কিছু নষ্ট হয়েছে, সেগুলো মেরামতের কাজ চলছে।’

তবে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের কারণে অনেক সময় বাতিগুলো নষ্ট হয়ে যায়। কিছু চুরিও হয়। এসব বিষয় আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বাতি সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া।’


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, পৌরসভা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ