
ডিবি কার্যালয়ে তুলে নিয়ে নাসির মিয়া নামে বিএনপির এক নেতাকে নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠেছে। শনিবার (২৮ জুন) সুনামগঞ্জ শহরতলীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
নির্যাতনের শিকার দাবি করা বিএনপি নেতা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতনের শিকার নাসির মিয়া নিজের শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমের চিহ্ন দেখিয়ে বলেন, যাদুকাটা বালুমহালের ইজারাজনিত বিষয় নিয়ে বিএনপিরই আরেকটি পক্ষ ডিবিকে দিয়ে আমার উপর এভাবে নির্যাতন করিয়েছে।
লিখিত বক্তব্য নাসির বলেন, ‘যাদুকাটা-১ বালুমহালের সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের দোসর সাবেক ইজারাদার রতন মিয়া হাইকোর্টে একটি মামলা করলে ইজারা কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ করে আদালত। একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক মাহবুবুর রহমান যাদুকাটা বালুমহালের শেয়ার দাবি করলে অন্যপক্ষের মধ্যস্থতায় ৩০ শতাংশ দিতে রাজি হই। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে মাহবুব হাইকোর্টে একটি মামলা করেন। গত ২৫ জুন হাইকোর্টে আইনি লড়াইয়ের জন্য ঢাকায় যা্ই আমি।‘
নাসির আরও বলেন, ‘ঢাকায় গেলে কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমানের নির্দেশে বালুমহালের সাবেক ইজারাদার ও ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি রতন মিয়া ও তাঁর দুই সহযোগীর সহযোগিতায় ঢাকার সেগুন বাগিচার দুদুক কার্যালয়ের সামনে থেকে আমাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় ডিবি। পরে ডিবির মিন্টু রোডের কার্যালয়ে নিয়ে আমার উপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয় এবং কোর্টে মামলা না লড়তে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ডিবি অফিসে গিয়ে অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে ডিবির সদস্যের সামনেই আমার সঙ্গে থাকা ৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা নিয়ে যান মাহবুবুর রহমান। এবং সাজানো মুচলেকায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর রেখে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।‘
সংবাদ সম্মেলনে নাসির আরও দাবি করেন, ‘ডিবি অফিসে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কোন দল এবং কার গ্রুপ করেন। জবাবে নাসির জানান, সে সুনামগঞ্জের বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী কামরুলজ্জামান কামরুলের গ্রুপ করেন। এ কথা শোনার পর তাঁকে আরও বেশি মারধর করা হয় এবং মামলার বিষয়ে কোর্টে ফের গেলে গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান জানান, যাদুকাটা বালুমহালের ইজারা নিয়ে কারো সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব নেই। নাসির মিয়া যাদুকাটা বালুমহালে কাজ স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় ইজারা নিয়ে পরিবেশ বিধ্বংসী করতে চাই। ডিবি কার্যালয়ে নির্যাতনের ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি সাজানো দাবি করেন তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে অনেক বাঁধা বিপত্তি মোকাবিলা করে নাসির এ এলাকায় বিএনপির হয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিল, এটা প্রতিষ্ঠিত সত্যি। এমন একজন বিএনপির নিবেদিত কর্মীকে ডিবি অফিসে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আর এ ঘটনা কে বা কারা করিয়েছে ভুক্তভোগী নাসির প্রকাশ্যে সব বলেছে।
যাদুকাটা বালুমহালের সাবেক ইজারাদার রতন মিয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসাইন জানান, সুনামগঞ্জের কোনো ব্যবসায়ীকে ডিবি পুলিশ নির্যাতন করেছে, এমন তথ্য তাঁদের কাছে নেই।
শেয়ার করুনঃ
দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন
সুনামগঞ্জ, ব্যবসায়ী, ডিবি


