০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনন্দিন / নগরজীবন

জগন্নাথপুরে বাড়ছে হামের প্রকোপ, ওষুধ সংকটে ভোগান্তিতে রোগীরা

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:৪১ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নিতে আসায় সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। 


একদিকে রোগীর উপচে পড়া ভিড়, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি, সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনেরা।


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই জগন্নাথপুর উপজেলায় শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এর প্রকোপ আরও বেড়েছে। প্রতিদিনই হামের প্রকৌপ নিয়ে শিশু ও অন্যান্য রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। 


এদিকে তীব্র এ সংকটের মাঝে বর্তমানে হাসপাতালে হামের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ওষুধের মজুতও শেষ হয়ে গেছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। চিকিৎসকেরা প্রেসক্রিপশন দিলেও সরকারি সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের রোগীরা বিপাকে পড়েছেন।


হাম আক্রান্ত হয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১ মাস বয়সী ফারহান আহমেদ। তার স্বজন ফাহমিদা বেগম বলেন, ‘আমি রোগী লইয়া আইছি, ওষুধ নেই। আমরা গরিব মানুষ, ওষুধ আনার টাকা নাই।’


ভাতগাঁও গ্রামের ফারভিন বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েকে নিয়ে আইছি হামের রোগী, সরকারি হাসপাতালে। আইয়া দেখি ওষুধ নাই।’


শাহিন মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ে হামের রোগী। নার্স বলেন বাহির থেকে ওষুধ কিনে আনতে। আমি বললাম, টাকা নাই। নার্স মৌসুমী বলেন, টাকা নাই থেকে রোগী নিয়ে আইছেন কেনে।’


হাসপাতালের নার্স সঞ্চিতা বলেন, ‘হামের রোগী বেশি, প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’


তবে নার্স মৌসুমী বলেন, ‘আমার উপর অভিযোগ সত্য নয়, আমি এমন কথা বলিনি। আমি বলেছি বাইর থেকে ঔষধ আনেন।’


ওষুধের ঘাটতির বিষয়ে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিম আহমেদ বলেন, ‘হামের ওষুধ নেই, যা ছিলো শেষ হয়ে গেছে। হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। ওষুধের নতুন চাহিদাপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরবরাহ মিললেই এ সমস্যার সমাধান হবে।’


জগন্নাথপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রায় বলেন, ‘হামের রোগী বেশি, ওষুধ ছিলো, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা দিয়েছি।’


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

হাম, রোগীর ভোগান্তি, ওষুধ সংকট, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ