যুক্তরাজ্যের সৈকতে দুর্ঘটনা: মা-মেয়ের পর মারা গেল উদ্ধার হওয়া শিশুটিও
প্রবাস
প্রকাশঃ ৩১ জুলাই, ২০২৬ ৯:৫০ অপরাহ্ন
যুক্তরাজ্যের এসেক্স উপকূলে সমুদ্রস্নানে নেমে ডুবে যাওয়া সাত বছর বয়সী এক শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে গত সপ্তাহে পানিতে ডুবে মারা যান সিলেটি বংশোদ্ভূত ও যুক্তরাজ্য যুবদল নেতা ডা. মনসুর রহমানের স্ত্রী শ্যালি রহমান (৪২) ও তাঁর মেয়ে সামিহা রহমান (১৫)। সেদিন উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সেই শিশু মুসা আহমেদও এক সপ্তাহের ব্যবধানে মারা গেছে।
গত বুধবার (২২ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় কোলচেস্টারের কাছে ওয়েস্ট মার্সি সৈকতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সাত বছর বয়সী মুসা পরিবারের সঙ্গে ওয়েস্ট মার্সিতে একদিনের ভ্রমণে গিয়ে সমুদ্রে বিপদে পড়ে। তাকে বাঁচাতে গিয়েই ডুবে যান শ্যালি রহমান ও সামিহা। উদ্ধারের পর মুসাকে আকাশপথে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শ্যালি ও সামিহা ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর অবস্থায় দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে মুসারও মৃত্যু হয়।
পরিবারটি সেদিন সকালে পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ড থেকে কোলচেস্টারের কাছের দ্বীপ ওয়েস্ট মার্সিতে গিয়েছিল। মুসার বাবা শাহিন আহমেদ আগে জানিয়েছিলেন, পরিবারের ছয়জন সদস্য নৌকা বাইছিলেন, এমন সময় তারা ছিটকে পড়ে যান।
তিনি বলেন, দলটি পানিতে পা ডুবিয়ে বৈঠা চালানোর সময় ঢেউগুলো শুরুতে "বেশ ছোট" ছিল। তবে তিনি আরও বলেন, একবার জোয়ার যখন প্রবলভাবে আছড়ে পড়ল, তখন তাদের সবার পা টলে গিয়েছিল আর ঠিক তখনই আতঙ্ক শুরু হয়।
তিনি তাঁর পরিবারকে সাহায্য করতে ছুটে আসা সাধারণ মানুষের ❝অসাধারণ সাহস, দয়া ও নিঃস্বার্থপরতার❞ প্রশংসা করেছেন।
এসেক্স পুলিশ আগে জানিয়েছিল, ২২ জুলাই বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে সিভিউ অ্যাভিনিউয়ের কাছে পানিতে বেশ কয়েকজন বিপদে পড়েছেন এমন খবর পেয়ে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা থেকে কর্মকর্তাদের ডাকা হয়। ইস্ট অফ ইংল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, সি ভিউ হলিডে পার্কের এই ঘটনার পর একজন রোগীকে আকাশপথে এবং তিনজনকে সড়কপথে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মুসার মৃত্যুর পর এক বিবৃতিতে পরিবার বলেছে, আমরা রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের ডাক্তার ও নার্সদের দলকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা হাসপাতালে থাকাকালীন আমাদের প্রতি অসাধারণ যত্ন ও মর্যাদা প্রদর্শন করেছেন। আমরা সমগ্র সম্প্রদায়কে তাদের সমর্থন ও প্রার্থনার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। এই অত্যন্ত কঠিন সময়ে আমরা গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারলে কৃতজ্ঞ থাকব।
ঘটনার তদন্তের নেতৃত্বে থাকা ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর আল পিচার বলেন, এই ঘটনায় জড়িতদের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমবেদনা রইল গত সপ্তাহে এই ঘটনাটি ঘটার পর থেকেই এমনটা হয়ে আসছে। তাদের সাহস ও শক্তি আমাকে অভিভূত করেছে। যেসব পরিস্থিতিতে এই ঘটনাটি ঘটেছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র গড়ে তোলার কাজ আমরা চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের অংশীদারদের সাথে আমাদের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাজ্য, এসেক্স, সিলেটি বংশোদ্ভূত, মৃত্যু