স্কুলড্রেস পরে বাইরে অশোভন আচরণ, শিক্ষার্থীদের সতর্ক করল জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১:০২ অপরাহ্ন
সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার রায় পড়া শুরু করেন। এর আগে সকালেই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কারাগার থেকে আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আদালত ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বহুল আলোচিত এ মামলার রায় শুনতে আদালতপাড়ায় আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও উৎসুক মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে।
মামলার আসামিরা হলেন—সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক), অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল এবং মাহফুজুর রহমান। তারা সবাই সিলেট নগরের টিলাগড়কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি গত বছরের মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর বিচারিক কার্যক্রমে ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন নির্যাতনের শিকার তরুণী, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের এক অধ্যাপক এবং সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক। সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে বাদীর সাক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কিছু পর্যবেক্ষণও আদালতে তুলে ধরেছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে শাহপরান মাজার এলাকা থেকে ফেরার পথে এক দম্পতিকে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে গেলেও তিনদিনের মধ্যে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে এজাহারভুক্ত ছয়জনসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়।
২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখন আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
এমসি কলেজ, এমসি কলেজ ধর্ষণ মামলা, এমসি কলেজ রায়, সিলেট আদালত, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, সাইফুর রহমান, সিলেট সংবাদ, আদালতের রায়, বাংলাদেশ