স্কুলড্রেস পরে বাইরে অশোভন আচরণ, শিক্ষার্থীদের সতর্ক করল জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলার রায়ের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে আজ। ঘটনার পাঁচ বছর নয় মাস ১৮ দিন পর মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। রায়কে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সকালেই কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
দেশজুড়ে আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ায় রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী পরিবার, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক আলামত ও অন্যান্য উপাত্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ খালাস দাবি করেছে।
ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন জানান, গত বুধবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।
মামলার আসামিরা হলেন—সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক), অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল ও মাহফুজুর রহমান। তারা সিলেট নগরের টিলাগড়কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের গ্রুপ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত বছর মে মাসে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর নির্যাতনের শিকার তরুণী, তার স্বামী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের এক অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শাহপরান মাজার থেকে ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক দম্পতির প্রাইভেটকার আটকে কয়েকজন যুবক তাদের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে গাড়ির ভেতর তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। পরে দম্পতিকে মারধর করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাদের গাড়িও আটকে রাখা হয়।
ঘটনার রাতেই নির্যাতিত তরুণীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পরে আরও দুই আসামির পরিচয় শনাক্ত হয়। প্রাইভেটকার আটকে রেখে চাঁদাবাজির অভিযোগে করা পৃথক মামলাটিও এ মামলার সঙ্গে একত্রে বিচার করা হচ্ছে।
ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে আটজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কয়েকজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিলও পাওয়া যায়।
২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ গঠনের পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আদালত ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আদালত চত্বরে প্রবেশেও রাখা হয়েছে বিশেষ নজরদারি।
মসি কলেজ ধর্ষণ মামলা, এমসি কলেজ রায়, সিলেট এমসি কলেজ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, এমসি কলেজ ছাত্রাবাস, সিলেট আদালত