মৌলভীবাজারে কমছে বন্যার পানি, গো-খাদ্য সংকটে গবাদিপশু
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ১৩ জুলাই, ২০২৬ ১:১৫ অপরাহ্ন
টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে সিলেট বিভাগের নদ-নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তিনটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সুরমা নদীর আরও তিনটি স্টেশন সতর্কসীমায় পৌঁছে যাওয়ায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) তথ্য অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এটি বর্তমানে দেশের মধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করা স্টেশনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। একই নদীর মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে পানি রয়েছে ৭ সেন্টিমিটার ওপর। অন্যদিকে সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া সুরমা নদীর কানাইঘাট, সিলেট ও সুনামগঞ্জ স্টেশন বর্তমানে সতর্কসীমায় রয়েছে। অর্থাৎ এসব পয়েন্টে পানি বিপদসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এসব স্থানেও অল্প সময়ের মধ্যে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের চারটি স্টেশনে তিনটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে তিনটি স্টেশনই সিলেট বিভাগের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর। অপরটি নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পয়েন্ট।
এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ১৫৭ মিলিমিটার, ছাতকে ১২৫ মিলিমিটার, মহেশখোলায় ৯৫ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জ সদর এলাকায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, ভারতের মেঘালয়েও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মাওকিরওয়াতে ১১৫ মিলিমিটার, মাউসিনরামে ১১১ মিলিমিটার, আর. কে. এম. সোহরায় ১০৮ মিলিমিটার, শেল্লায় ৮০ মিলিমিটার, উইলিয়ামনগরে ৮০ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মেঘালয়ের এসব পাহাড়ি এলাকা থেকেই সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উজানের পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি আরও বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীতীরবর্তী এবং নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এদিকে সোমবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৮০টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৪৪টিতে কমেছে এবং দুটি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি ও উজানের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে পানি সমতলের আরও পরিবর্তন হতে পারে।
সিলেট বন্যা, সুরমা নদী, কুশিয়ারা নদী, ফেঞ্চুগঞ্জ, ছাতক, মারকুলি, সিলেটের নদীর পানি, বন্যা পূর্বাভাস, এফএফডব্লিউসি, মেঘালয়ের বৃষ্টি, সুনামগঞ্জ, সিলেটের খবর, নদীর পানি বৃদ্ধি, বন্যা পরিস্থিতি, সিলেট বিভাগ ফেসবুক ক্যাপশন