০৮ জুলাই ২০২৬

অপরাধ-বিচার / মামলা

তাহিরপুরে বালু উত্তোলনে বাঁধা, মারধর করে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৮ জুলাই, ২০২৬ ৯:৪০ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে নদী থেকে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়া এবং ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে মারধর ও তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৮ জুলাই) সকালে উপজেলার শান্তিপুর গ্রামের কাছে শান্তিপুর নদীর তীরবর্তী একটি ফসলি জমিতে এ ঘটনা ঘটে।


এ ঘটনায় পুরানঘাট গ্রামের নজরুল ইসলাম নামে একজন আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 


এদিকে এ ঘটনায় আহত নজরুল ইসলামের বড় ভাই আতিকুর রহমান পাঁচজনের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 


অভিযোগে বলা হয়, শান্তিপুর নদীর তীরবর্তী আতিকুর রহমানদের ফসলি জমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে মুজিবুর রহমান, তার ভাই কফি মিয়া, নজির হোসেন, মুক্তার হোসেন ও কদু মিয়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে প্রায় ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি করছেন। এতে তাদের জমির ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়ে একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তারা উপেক্ষা করেছেন।


অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে আবারও তাদের জমি থেকে জোর করে বালু উত্তোলন করার চেষ্টা করেন মুজিুবর রহমান তার ভাইয়েরা। খবর পেয়ে আতিকুর রহমানের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম বাধা দেন ও নিষেধ করেন। এ সময় তিনি নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারন করেন। এ সময় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুলকে মারধর করে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। 


অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় নজরুল আহত হন। পরে তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে উদ্ধার করেন। পরে তাকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্স ভর্তি করা হয়।


আহত নজরুল ইসলাম বলেন, শান্তিপুর নদী এলাকা থেকে বালু বিক্রির ব্যাপারে এমপি (কামরুজ্জামান কামরুল) নিষেধ করেছেন। তাই আমাদের নিজেদের জমি থাকার পরেও বালু বিক্রি করছি না। অথচ আমাদের জায়গার বালু তুলে অন্য জায়গায় বিক্রি করে দেয় নজরুল ও তার লোকজন। বালু লুটের ভিডিও এমপিকে দেখানোর জন্য আমি ভিডিও করেছিলাম। তখন তারা আমাকে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিইয়ে যায়। 


এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুজিুবর রহমান জানান, জমি নিয়ে আতিকুর রহমানদের সাথে তাদের বিরোধ রয়েছে। তার ছোট ভাই কপি মিয়ার সাথে নজরুল ইসলামের কথা কাটাকাটি হয়েছে। তাকে মারপিট করা হয়নি, কপি মিয়ার হাতে ছাতা ছিল, হয়তো ছাতা লেগে গিয়েছে।


তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন,  শান্তিপুর নদীর বালু উত্তোলনের ব্যাপারে আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ যাচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

তাহিরপুর, বালু উত্তোলন, মারধর, মোবাইল ছিনতাই, সুনামগঞ্জ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ