
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিল ও জাপানের ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার আনন্দপুর পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ চলাকালে আনন্দপুর ও আশপাশের এলাকায় লোডশেডিং চলছিল। এ সময় খেলা দেখতে না পেরে একদল ব্যক্তি সাবস্টেশনে গিয়ে হামলা চালায়। এতে অফিসের থাইগ্লাস, মূল ফটক ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়।
এদিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর আনন্দপুর গ্রামের অনুজ দাস, মওদুদ আহমেদ, আরমান মিয়া, আল আমিন ও অনিক রায়ের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রথীন্দ্র চন্দ্র দাস জানান, আনন্দপুর বাজারে বড় পর্দা টাঙিয়ে ব্রাজিল ও জাপানের খেলা দেখছিলো এলাকার যুবকরা। বিদুৎ না থাকায় হঠাৎ সেখান থেকে মানুষজন সরে যান। তিনি বলেন, ‘পরে শুনেছি বিদুৎ অফিসে হামলা চালিয়ে তাদের গ্লাস-টাস ভাঙ্গা হয়েছে।’
আনন্দপুর সাব-স্টেশন অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সজল চন্দ্র দেব জানান, গ্রীড থেকে বিদুৎ বরাদ্দ কম ছিল, সেজন্য লোডশেডিং চলছিল। এ সময় ব্রাজিলের খেলা চলছিল, তখন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা আমাদের অফিসে এগিয়ে আসে।
তিনি বলেন, ‘বিদুৎ বরাদ্দ কম থাকার বিষয়টি আমরা তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু তারা বুঝতে রাজি হননি। পরে তারা আমাদের অফিসে হামলা ও ভাংচুর করে। এতে মূল গেইট ও মূল ভবনের অনেক থাইগ্লাস ভেঙে গেছে।’
তিনিস আরও বলেন, ‘হামলার ঘটনায় অফিসের পাঁচ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।’
দিরাই-শাল্লা পল্লী বিদ্যুতের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, গতকাল শাল্লা উপজেলায় বিদুৎ বরাদ্দ ছিল মোট প্রয়োজনের অর্ধেক। এই অর্ধেক বরাদ্দ দিয়ে অর্ধেক উপজেলায় বিদুৎ সচল রাখা হয়েছিল। চলমান পরিস্থিতিতে পুরো উপজেলায় বিদুৎ সচল রাখা সম্ভব ছিল না।
তিনি বলেন, লোকজন না বুঝে অফিসে হামলা চালিয়ে মূল ফটক সহ অনেক দামী জিনিসপত্র নষ্ট করে দিয়েছে। পুলিশ এসে দেখে গিয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান বলেন, ‘বিদুৎ অফিসে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শেয়ার করুনঃ
অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন
ব্রাজিল খেলা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস, ভাঙচুর মামলা, শাল্লা উপজেলা, বিশ্বকাপ ফুটবল


