তপুর জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে প্রথম জয় বাংলাদেশের
খেলাধুলা-বিনোদন
প্রকাশঃ ৬ জুন, ২০২৬ ১:২১ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে শুক্রবারের রাতটি বিশেষ হয়ে থাকল একাধিক কারণে। ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ। জাতীয় দলের ডাগআউটে নতুন কোচ থমাস ডুলির অভিষেক। আর সেই ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠলেন এক ডিফেন্ডার তপু বর্মণ।
গোল করার দায়িত্ব সাধারণত ফরোয়ার্ডদের। কিন্তু সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় এনে দিলেন তপুই। তার জোড়া গোলে ফিফা প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
সেরাভালের স্তাদিও অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। নতুন কোচ ডুলি প্রথম একাদশে বেশ কিছু চমক রাখেন। সমিত সোম, ফাহামেদুল ইসলাম ও জায়ান আহমেদের মতো নতুন মুখদের বেঞ্চে রেখে অভিজ্ঞদের ওপরই আস্থা রাখেন তিনি।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। তবে জামাল ভূঁইয়ার শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বাধায় আটকে যায়। দুই মিনিট পরই অবশ্য এগিয়ে যায় লাল-সবুজের দল। ডান প্রান্ত থেকে মোরছালিনের নিখুঁত ক্রস। বক্সের ভেতরে উঠে আসা তপু বর্মণের হেড। গোলকিপারের কোনো সুযোগই ছিল না। ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ম্যাচে প্রথম গোলটির নাম লিখে ফেলেন এই সেন্টারব্যাক।
তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩১ মিনিটে সমতায় ফেরে সান মারিনো। ডান দিক দিয়ে এগিয়ে এসে বেরার্দির কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন নিকোলাস জাকোপেত্তি। বাংলাদেশের রক্ষণভাগের কয়েকজন খেলোয়াড় বক্সে থাকলেও বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি কেউ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সাদ উদ্দিন গোলকিপারকে একা পেয়েও শট রাখতে পারেননি লক্ষ্যে।
বিরতির পর নিজের কৌশলে পরিবর্তন আনেন ডুলি। জামাল ভূঁইয়া ও মোরছালিনকে তুলে মাঠে নামান সমিত সোম ও জায়ান আহমেদকে। পরে আরও কয়েকটি পরিবর্তন এনে নতুন মুখদের সুযোগ দেন জার্মান কোচ। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের খেলায় দেখা যায় গতি ও আত্মবিশ্বাস। ৪৮ মিনিটে হামজা চৌধুরীর দারুণ পাস ধরে রফিকুল ইসলাম ক্রস তুললেও গোলমুখে বল ছুঁতে পারেননি সোহেল রানা। কয়েক মিনিট পর সাদের ক্রস থেকে ফাহিমের সুযোগও কাজে লাগেনি।
একদিকে আক্রমণ, অন্যদিকে সান মারিনোর পাল্টা চেষ্টাও সামলাতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ৬১ মিনিটে কাপিচ্চিওনির ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মিতুল মারমা। ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, জয়সূচক গোলের জন্য বাংলাদেশের চেষ্টাও তত বেড়েছে। আর সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসে ৮৬ মিনিটে। হামজার নেওয়া ফ্রি-কিক বক্সে ভিড়ের মধ্যে গিয়ে পড়ে। বলটি পরে বিশ্বনাথ ঘোষের সামনে আসে। তাঁর সাইড ভলিতে মাথা ছুঁইয়ে দিক পরিবর্তন করেন তপু বর্মণ। মুহূর্তেই জালে জড়িয়ে যায় বল।
গোলের পর জার্সি খুলে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন তপু। গ্যালারিতে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকেরাও তখন উৎসবে মেতে ওঠেন। শেষ কয়েক মিনিটে আর কোনো বিপদ হতে দেননি বাংলাদেশের ফুটবলাররা। ফলে ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই জয় পেল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পেলেন থমাস ডুলি।
আর পুরো রাতটি হয়ে রইল তপু বর্মণের। ডিফেন্ডার হয়েও জোড়া গোল করে তিনি যেন মনে করিয়ে দিলেন, ইতিহাসের নায়ক হতে সব সময় ফরোয়ার্ড হওয়ার প্রয়োজন হয় না।
বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো, বাংলাদেশ ফুটবল দল, তপু বর্মণ, থমাস ডুলি, বাংলাদেশ ফুটবল