তপুর জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে প্রথম জয় বাংলাদেশের
খেলাধুলা-বিনোদন
প্রকাশঃ ৬ জুন, ২০২৬ ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
আর বেশি দেরি নেই। দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। উত্তর আমেরিকার মাটিতে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা। ঠিক এমন সময়ই এল সুখবর—ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান আবারও ফিরে পেতে যাচ্ছে লিওনেল স্ক্যালোনির দল।
তবে এই সুখবরের আড়ালে লুকিয়ে আছে দুটি অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান। যে পরিসংখ্যান বিশ্বকাপের আগে নতুন করে ভাবিয়ে তুলতে পারে লিওনেল মেসিদের।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার নিজেদের শেষ হোম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। কিন্তু কেউই প্রত্যাশিত ফল পায়নি। লা করুনিয়ার এস্তাদিও রিয়াজোরে ইরাকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে স্পেন। অন্যদিকে নঁতের স্তাদ দ্য লা বোজোয়ারে আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে ফ্রান্স।
এই দুই ফলের প্রভাব পড়ছে সরাসরি ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে। ফিফার হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১১ জুন প্রকাশিত হতে যাওয়া নতুন র্যাঙ্কিংয়ে আবারও এক নম্বরে উঠে আসবে আর্জেন্টিনা। এমনকি শনিবার হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে হারলেও স্ক্যালোনির দলের পয়েন্ট থাকবে ১ হাজার ৮৭৪, যা স্পেন ও ফ্রান্সের সম্ভাব্য পয়েন্টের চেয়েও বেশি।
চলতি বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক বিরতির পর আর্জেন্টিনাকে সরিয়ে শীর্ষে উঠেছিল ফ্রান্স। তার আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দীর্ঘদিনের আর্জেন্টাইন আধিপত্য ভেঙে এক নম্বরে পৌঁছেছিল স্পেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রায় তিন বছর র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল আলবিসেলেস্তেরা।
শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়ার খবর স্বাভাবিকভাবেই আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তি এনে দিয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল হিসেবে বিশ্বকাপে গিয়ে কখনোই শিরোপা জিততে পারেনি কোনো দেশ।
১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল জার্মানি। কিন্তু ট্রফি উঠেছিল ব্রাজিলের হাতে। চার বছর পর এক নম্বরে থাকা ব্রাজিল নিজেই ফাইনালে হার মানে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে। ২০০২ সালে শীর্ষ দল ফ্রান্স গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি। সেবারও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। ২০০৬ সালে এক নম্বরে থাকা ব্রাজিলকে হতাশ করে শিরোপা জেতে ইতালি।
২০১০ সালে একই পরিণতি হয় ব্রাজিলের, আর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে এক নম্বরে ছিল স্পেন। কিন্তু জার্মানির হাতে ওঠে ট্রফি। ২০১৮ সালে শীর্ষে থাকা জার্মানি বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকে, আর চ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রান্স। সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল ব্রাজিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা।
ফলে নতুন র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ওঠা আর্জেন্টিনার জন্য যতটা গৌরবের, ততটাই অস্বস্তিরও। কারণ বিশ্বকাপের আগে এক নম্বর দল হওয়ার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে এক ধরনের ‘অভিশাপ’।
তবে এটিই একমাত্র বাধা নয়। বিশ্বকাপ ধরে রাখার ইতিহাসও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কথা বলছে। ১৯৬২ সালে ব্রাজিল টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতার পর কেটে গেছে ৬৪ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে কোনো দলই শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি।
আর্জেন্টিনাও নিজেদের ইতিহাসে কখনো পরপর দুটি বিশ্বকাপ জেতেনি। ১৯৭৮ সালের পর ১৯৮৬ সালে, আর ১৯৮৬ সালের পর ২০২২ সালে শিরোপা জিতলেও কখনোই তারা ব্যাক-টু-ব্যাক চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। তাই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়া যেমন মেসিদের জন্য আত্মবিশ্বাসের বার্তা, তেমনি ইতিহাস যেন সামনে ছুড়ে দিচ্ছে দুটি বড় প্রশ্নও।
র্যাঙ্কিংয়ের ‘অভিশাপ’ কি ভাঙতে পারবে আর্জেন্টিনা? আর ৬৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কি বিশ্বকাপ ধরে রাখার নতুন ইতিহাস লিখতে পারবে মেসিদের উত্তরসূরিরা? উত্তর মিলবে উত্তর আমেরিকার মঞ্চে।
আর্জেন্টিনা ফুটবল দল, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ২০২৬, লিওনেল মেসি , লিওনেল স্ক্যালোনি , ফিফা র্যাঙ্কিং, ফিফা র্যাঙ্কিং ২০২৬