০৫ জুন ২০২৬

সিলেটজুড়ে

গোয়াইঘাটে কাজ শেষ না হতেই কার্পেটিং উঠে গর্ত, প্রশ্নের মুখে সড়ক সংস্কার

প্রতিনিধি, গোয়াইনঘাট, সিলেট

প্রকাশঃ ৪ জুন, ২০২৬ ১:০২ অপরাহ্ন


সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার আগেই সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার একটি গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ইটের সুরকি বেরিয়ে পড়েছে। নিম্নমানের বিটুমিন ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুরু থেকেই কাজে অনিয়ম ছিল। কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের এমন অবস্থায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।


উপজেলা প্রকৌশল অফিস (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় খাইরাই-বঙ্গবীর হাদারপার জিসি সড়কের বঙ্গবীর থেকে হাদারপার বাজার পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেসার্স হাবিব অ্যান্ড সন্স কাজটি পায়। তবে বাস্তবায়নের দায়িত্বে সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন রুস্তুমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।


সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গবীর পয়েন্ট থেকে হাদারপার বাজারের পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত সড়কের একাধিক স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে নিচের ইট ও সুরকি বেরিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রুস্তুমপুর কলেজের সামনে, পাতনী ভার্ড স্কুলের সামনে এবং ডোমবাড়ী মোড়া থেকে পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের বিটুমিন ও খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। তাই ঢালাই দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এতে সরকারি অর্থ অপচয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে এই সড়ক দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তারা জানান, এত টাকা খরচ করে কোনো লাভ হয়নি। বর্ষা এলে এই সড়কে চলাচল আরও কঠিন হয়ে যাবে।


অভিযোগের বিষয়ে সাব-ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদ অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। বরং নির্ধারিত ১৫ মিলিমিটারের জায়গায় ১৭ মিলিমিটার কার্পেটিং করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি, গরুর গোবর, মূত্র এবং রাস্তার ওপর ঝুলে থাকা গাছের ডালপালা থেকে পড়া পানির কারণে কার্পেটিং উঠে গেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের আশ্বাস দেন তিনি।


এদিকে স্থানীয় রুস্তুমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব সড়কের বর্তমান অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংস্কারের নামে শুরু থেকেই অনিয়ম হয়েছে। নিম্নমানের কাজের কারণে কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কে গর্ত তৈরি হয়েছে। এই অনিয়মের জন্য ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকৌশল অফিস—দু’পক্ষই দায়ী। বিষয়টি উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় উত্থাপন করেছেন বলেও জানান তিনি।


এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) হাসিব আহমেদ বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতি রয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে তাড়াহুড়ো করে কাজ করায় কার্পেটিং উঠে গেছে। এখনো চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুনঃ

সিলেটজুড়ে থেকে আরো পড়ুন

গোয়াইনঘাট সড়ক, সিলেট সড়ক সংস্কার, এলজিইডি প্রকল্প, খাইরাই বঙ্গবীর হাদারপার সড়ক, গ্রামীণ সড়ক সংস্কার

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ