০৫ জুন ২০২৬

সিলেটজুড়ে

সিলেট-চারখাই-শেওলা চারলেন প্রকল্পের ব্যয় কমল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৪ জুন, ২০২৬ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

ছবিঃ প্রতীকী

বাংলাদেশে যেকোনো বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ও বাড়ে—এটাই পরিচিত বাস্তবতা। তবে সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প সেই ধারার বাইরে গিয়ে ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন কাজ শুরু না হলেও আন্তর্জাতিক দরপত্রে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য পাওয়ায় প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় কমেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।


সম্প্রতি সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটির পূর্তকাজের জন্য দুই হাজার ৫০৬ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে একই কাজের জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা। দরপত্র মূল্যায়নের পর প্রায় ২০ শতাংশ কম মূল্যে কাজ বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।


সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দরের ৪২ দশমিক ৯৮৫ কিলোমিটার মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর চিন্তাভাবনা চলছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ তিনটি লটে বাস্তবায়ন করা হবে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে তিনটি লটের জন্য মোট ৪৭টি প্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৯টি কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। পরে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতাদের নির্বাচিত করা হয়।


প্রথম লটের কাজ পেয়েছে বাংলাদেশের মনিকো লিমিটেড ও চীনের চায়না রেলওয়ে নম্বর ফোর ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ। এ লটের চুক্তিমূল্য এক হাজার ৯৯ কোটি ৫১ লাখ ৮৪ হাজার ৪২৬ টাকা।  দ্বিতীয় লটের কাজ বাস্তবায়ন করবে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন। এ অংশের চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৩০ টাকা। তৃতীয় লটের দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের এনডিই এবং চীনের আরবিসিজির যৌথ উদ্যোগ। এ লটের কাজের মূল্য ৫৮৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।


জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৪৭ দশমিক ১৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ৪২ দশমিক ৮০ লাখ ঘনফুট মাটির কাজ, প্রায় ৪৩ কিলোমিটার পেভমেন্ট নির্মাণ এবং ১ হাজার ৫৭৫ জন-মাস পরামর্শক সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।  এছাড়া নির্মাণ করা হবে ৩১টি কালভার্ট, ৩টি সেতু, ৩টি ফ্লাইওভার, ৬টি ওভারপাস, ৫টি আন্ডারপাস, ৪টি ফুটওভার ব্রিজ, ৭টি পথচারী পারাপার সুবিধা এবং একটি টোল প্লাজা। চার লেন মহাসড়কের দুই পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য দুটি সার্ভিস লেনও থাকবে।


প্রকল্পের বিশেষ অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার। পাশাপাশি চারখাই ও হেতিমগঞ্জ বাজারে ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি পৃথক ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। রানাপিং ও রামধা বাজার এলাকায় আরও দুটি ছোট ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর ওপর বিদ্যমান শেওলা সেতুর পাশে নতুন চার লেনের একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।


সিলেট-চারখাই-শেওলা চার লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক উৎপল সামন্ত জানান, আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু গত দুই বছরে কাজ শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবকাঠামোগত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। এ কারণে প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।


এদিকে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হওয়ার কথা স্বীকার করে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় এ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজ কিছুটা পিছিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং আগামী আগস্টের আগেই ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে।


এদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার পাশাপাশি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে শেওলা স্থলবন্দরের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং সীমান্ত বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার হবে।


শেয়ার করুনঃ

সিলেটজুড়ে থেকে আরো পড়ুন

সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়ক, শেওলা স্থলবন্দর, চার লেন প্রকল্প, সিলেট সড়ক উন্নয়ন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ