১৭ মে ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

ফাহিমা হত্যা: লাশ গুমে সহায়তার অভিযোগ পরিবারের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৬ মে, ২০২৬ ৩:২৬ অপরাহ্ন

ছবিঃ ফাহিমার চাচা ইমাম আহমদ। ইনসেটে খুন হওয়া ফাহিমা । ছবি সংগৃহীত

সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া জাকিরকে নিয়ে নতুন অভিযোগ তুলেছেন শিশুটির চাচা ইমাম আহমেদ। তার দাবি, ফাহিমাকে হত্যা করেছে জাকির একাই। তবে হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে জাকিরের পরিবারের সদস্যরাও তাকে সহায়তা করেছেন।


একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমাম আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত জাকির তাদের প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের পরিচিত। দুজনই সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। দুই পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় শুরুতে কাউকে সন্দেহ করার সুযোগ হয়নি।


তিনি বলেন, ওদের পরিবারের সবাই আমাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করত। তার মা প্রায় প্রতিদিন সকালে আমাদের বাড়িতে এসে চা খেতেন। তাই এমন ঘটনা ঘটতে পারে, এটা কখনো ভাবিনি। এছাড়া ফাহিমা নিখোঁজ হওয়ার পর জাকির ও তার পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজিতেও অংশ নেন বলে জানান ইমাম আহমেদ।


তিনি বলেন, তারা আমাদের সঙ্গেই বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ফাহিমাকে খুঁজেছে। এজন্য তাদের দিকে সন্দেহ যায়নি। এছাড়া ফাহিমার মরদেহ যে ডোবার পাশে পাওয়া যায়, সেটি খুব নোংরা জায়গা হওয়ায় সাধারণত সেখানে কেউ নামতেন না। তবে খোঁজার সময় জাকির নিজেই ওই ডোবায় নেমেছিলেন। তাই তিনি ধারণা করছেন, নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখতেই এমনটি করেছিলেন জাকির।


এদিকে  জাকিরের বড় ভাই জয়নালের বিরুদ্ধেও ইমাম আহমেদ অভিযোগ তুলে বলেন, জয়নাল সব জানার পরও বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন এবং উল্টো ফাহিমাকে খুঁজতে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছিলেন।


এদিকে ঘটনার পর জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন, কাউকে সন্দেহ করছেন কি না। তখন তিনি কাউকে সন্দেহ করেননি। পরে ওসির কথার পর জয়নালের কাছে গিয়ে জাকিরের খোঁজ জানতে চান।


জয়নাল প্রথমে বলেন তিনি জানেন না জাকির কোথায়। পরে বলেন, জাকির গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন। কিছুক্ষণ পর জয়নালের ঘরের পেছনে দাঁড়িয়ে তিনি কিছু কথোপকথন শুনতে পান।


ইমাম আহমদের ভাষ্যমতে, জয়নাল তার মাকে বলছিল, ওদের চোখের সামনে থাকতে। পরে জাকিরকে ডেকে বলে, সবসময় তাদের সঙ্গে থাকবি, যেন সন্দেহ না করে।


এই ঘটনা শোনার পর তিনি বিষয়টি পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ জাকিরকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান তিনি। 


ফাহিমার চাচার অভিযোগ, হত্যার পর মরদেহ গোপনের চেষ্টায় জাকিরের পরিবারের সদস্যরাও ভূমিকা রেখেছেন। 


তিনি বলেন, জাকির একাই হত্যা করেছে, কিন্তু পরে লাশ গুমে পরিবারের সবাই সাহায্য করেছে। 


তিনি আরও বলেন, ফাহিমাকে খুঁজতে তারা কালেঙ্গা পাহাড়, শাহজালালের দরগাহ ও ডলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে গেছেন। সে সময় জাকির ও তার বড় ভাইও তাদের সঙ্গে ছিলেন। 


তার ধারণা, তারা পরিবারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন এবং সন্দেহ অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।


ইমাম আহমদ বলেন, ঘটনার রাতে ভোরে তারা বাড়ি ফেরেন। পরদিন সকালে পাশের বাড়ির এক নারী বাড়ির কাছে একটি ডোবার পাশে ফাহিমার মরদেহ দেখতে পান।


তার ভাষ্য, অল্প সময় আগেও আমরা ওই জায়গার পাশ দিয়ে গেছি। তখন কিছু ছিল না। পরে সেখানে মরদেহ পাওয়া যায়।


এদিকে, জয়নাল আহমদের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুক্রবার স্থানীয় কিছু লোক তার বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে জাকির গ্রেপ্তারের রাতেও বাড়িটিতে হামলার ঘটনা ঘটে।


প্রসঙ্গত, গত ৬ মে জালালাবাদ থানার সোনাতলা এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ফাহিমা আক্তার। দুই দিন পর বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ১১ মে রাতে এ ঘটনায় জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ রয়েছে।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

ফাহিমা আক্তার হত্যা, সিলেট শিশু হত্যা, জাকির গ্রেপ্তার, জালালাবাদ থানা, ফাহিমা হত্যা মামলা, সিলেট অপরাধ সংবাদ, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা, জাকির পরিবার, ইমাম আহমেদ, সোনাতলা সিলেট, সিলেট নিউজ, শিশু হত্যাকাণ্ড, মরদেহ উদ্ধার

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ