২৮ এপ্রিল ২০২৬

কৃষি / চাষাবাদ

অর্ধেক ধান এখনও ক্ষেতে, টানা বৃষ্টিতে দিশেহারা হাওরের কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২০ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এখনও অর্ধেকের বেশি বোরো ধান জমিতে রয়ে গেছে। টানা বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে ধান কাটতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এর মধ্যে উজান থেকে পানি বাড়ার শঙ্কায় বন্যা আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে পুরো হাওরজুড়ে।

রোববার রাত থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাওরে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে সুরমা-কুশিয়ারাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটার কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টারও নামানো যাচ্ছে না অনেক এলাকায়। বেশি মজুরি দিয়েও ধান কাটতে পারছেন না অনেক কৃষক।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক মো. রেনু মিয়া বলেন, পাগনা হাওরের চার আনা ধান কাটা হইছে। পানি থাকায় মেশিন নামানো যায় না। মানুষও কম। কাটা ধান খলায় পড়ে আছে, গন্ধ ধরছে।

তাহিরপুর উপজেলার শাহাগঞ্জ গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, শনির হাওরের অর্ধেকের বেশি ধান এখনও বাকি। ২০-২২ কিয়ারের মধ্যে মাত্র ৮ কিয়ার কাটছি। রোদ না থাকায় শুকাইতে পারতেছি না। হাঁটু-উরু পানি থাকায় ক্ষেতেই নামা কঠিন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার ১৩৭টি হাওরে এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। তবে সোমবার পর্যন্ত ৯২ হাজার ১১৮ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে, যা মোট আবাদি জমির প্রায় ৪১ শতাংশ। এখনও ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৯৩ হেক্টর জমির ধান কাটা বাকি।

কৃষক নেতারা বলছেন, বাড়তি খরচে ধান কাটতে গিয়ে কৃষকরা আরও চাপে পড়েছেন। সুনামগঞ্জ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সহ-সভাপতি খায়রুল বশর ঠাকুর খান বলেন, প্রতিদিন এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা মজুরিতে শ্রমিক নিয়ে ধান কাটাতে হচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাটা ধানেও অংকুর গজানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

শাল্লা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সেন বলেন, ধান কাটতে পারছে না, আনলেও শুকাতে পারছে না—কৃষক এখন চতুর্মুখী সংকটে। প্রতি কিয়ার জমির ধান কাটতেই ৪-৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, শতভাগ ধান কাটতে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে কৃষক-শ্রমিক কেউই ঠিকমতো মাঠে নামতে পারছেন না।

এদিকে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, চেরাপুঞ্জিসহ উজান এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী কয়েকদিন নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে হাওরে চাপ তৈরি হবে।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত হাওর রক্ষা বাঁধ অক্ষত থাকলেও টানা বৃষ্টিতে মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে।


শেয়ার করুনঃ

কৃষি থেকে আরো পড়ুন

হাওর, সুনামগঞ্জ, কৃষক, বোরো ধান

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ