বকেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে নাসুমের বিরুদ্ধে সিলেটের পাল্টা অভিযোগ
খেলাধুলা-বিনোদন
প্রকাশঃ ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:১৬ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ঘিরে শুরু থেকেই অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচনের পর এক পক্ষ এসব অভিযোগ নিয়ে সরব হয়। চলতি মাসের শুরুতে সেই অভিযোগ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) পৌঁছালে তদন্ত কমিটি গঠন করে সংস্থাটি। তদন্ত প্রতিবেদনে ওঠা নানা অনিয়মের ভিত্তিতেই বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
গত ৮ মার্চ কিছু ক্লাব প্রতিনিধি এবং পরদিন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কিছু কাউন্সিলর এনএসসিতে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এরপর সাবেক বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এনএসসি। তদন্ত কমিটি গত রোববার এনএসসির কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আজ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ সময় তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা অনিয়মের বিষয়গুলো সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিসিবি নির্বাচনে ক্যাটাগরি–১ এ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলো থেকে ১০ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। নির্বাচনের সময় এই ক্যাটাগরিতে কাউন্সিলরদের নাম জমা দেওয়ার সময়সীমা কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছিল। তদন্ত কমিটির মতে, যথাযথ কারণ ছাড়াই এবং গোপন উদ্দেশ্যে সময় বাড়ানো হয়। এতে নিজেদের ‘পছন্দের’ কাউন্সিলরদের মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এবং তাদের পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত করার পথ সহজ হয়।
জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে কাউন্সিলর নির্বাচন প্রক্রিয়ায়ও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গঠিত অ্যাডহক কমিটি থেকে নতুন করে কাউন্সিলর পাঠাতে বলা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতিদের প্রভাবিত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার এপিএস সাইফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাবিত করেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়নের জন্য চিঠি দিয়েছিলেন বিসিবির তখনকার সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তবে ওই অ্যাডহক কমিটিগুলোর বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তদন্ত কমিটি। কারণ, অধিকাংশ অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রেও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ‘অযৌক্তিক’ হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির দাবি, বিসিবির সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং তাঁর এপিএস সাইফুল ইসলামের সহায়তায় সমন্বিতভাবে ই-ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও কারচুপির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট স্থান থেকে গোপনীয়তা ছাড়া ই-ভোট প্রদানের প্রমাণ পাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ভোটারদের অধিকাংশ ভোটের দিনে শারীরিকভাবে উপস্থিত ছিলেন—এ বিষয়টিকে ভোট কারচুপির প্রক্রিয়া হিসেবে মনে করেছে তদন্ত কমিটি।
ঢাকা জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটিতে আমিনুল ইসলাম ও নাজমূল আবেদীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও ‘অযৌক্তিক প্রভাব’ খাটানোর অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ব্যালটের গোপনীয়তা, প্রার্থীদের সমান সুযোগ এবং স্বাধীন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিধান লঙ্ঘনের মতো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত কমিটির মতে, এগুলো বিসিবির গঠনতন্ত্রেরও লঙ্ঘন।
ক্যাটাগরি–২ এ ক্লাব কাউন্সিলরদের বক্তব্যের ভিত্তিতে নির্বাচনের সময় হুমকি প্রদান ও বেআইনিভাবে জবরদস্তির প্রমাণ পাওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ই-ভোটিং সিস্টেমের অপব্যবহার করে কাউন্সিলরদের গোপনীয়তা রক্ষা না করার অভিযোগও করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ঘটনা হোটেল শেরাটনে ঘটেছে। ওই হোটেলের প্রধান নির্বাহী সাখাওয়াৎ হোসেন বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য সংরক্ষিত ক্যাটাগরি–৩ থেকেও একজন পরিচালক নির্বাচিত হন। এই ক্যাটাগরিতে ১০ জন সাবেক ক্রিকেটারের ভোটে পরিচালক নির্বাচিত হন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ১০ জনকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার দায়িত্ব তৎকালীন বোর্ড পরিচালকরা সভাপতি আমিনুল ইসলামকে দিয়েছিলেন বলে তখন দাবি করা হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিটি বিসিবির কাছ থেকে বোর্ডসভার অডিও বা ভিডিও চাইলে ৩–৪ সপ্তাহ সময় চেয়েছিল বিসিবি। তদন্ত কমিটির মতে, এই সময় চাওয়া ‘অযৌক্তিক’। অন্যদিকে অন্যান্য পরিচালকরা তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন, কাউন্সিলর মনোনয়নের দায়িত্ব আমিনুলকে দেওয়া হয়নি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ওঠা এসব অনিয়ম ও প্রক্রিয়াগত প্রশ্নের ভিত্তিতেই বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
সূত্র: প্রথম আলো
বিসিবি, আমিনুল ইসলাম, কমিটি বাতিল, নতুন এডহক কমিটি গঠন