টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে সুরমা-কুশিয়ারার পানি
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ২৩ মার্চ, ২০২৬ ৫:৫৫ অপরাহ্ন
ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি আজ শেষ হলেও সিলেটে পর্যটকদের আগমন থামেনি। বরং ছুটির পরদিন থেকেই জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বেড়েছে ভ্রমণপিপাসুদের উপস্থিতি। হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো প্রায় সম্পূর্ণ ভরতি, আর জনপ্রিয় স্পটগুলোতে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়।
স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুটির শেষদিন সোমবার হলেও পর্যটকের এই চাপ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখনও পরিবার-পরিজন নিয়ে সিলেটে আসছেন প্রকৃতির টানে।
জেলার জাফলং, সাদাপাথর, লালাখাল, বিছনাকান্দি ও চা-বাগানগুলোতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কোথাও কমতি নেই ভ্রমণকারীদের উচ্ছ্বাসের। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর এলাকায় ঈদকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে পর্যটন কার্যক্রম। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ জলধারা আর ধলাই নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা সাদা পাথরের দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই সেখানে ছুটছেন হাজারো মানুষ।
ঈদের দিন তুলনামূলক কম ভিড় থাকলেও পরদিন থেকে পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। নৌঘাট থেকে মূল পর্যটন এলাকা পর্যন্ত সর্বত্রই ছিল মানুষের আনাগোনা। অনেকে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পানিতে নেমে সময় কাটাচ্ছেন, কেউবা ছবি তোলায় ব্যস্ত।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সোহেল রানার ভাষ্য, ব্যস্ত নগরজীবন থেকে একটু স্বস্তি পেতে এখানে এসেছি। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য সত্যিই মন ভরে দেয়।
স্থানীয় একটি গেস্টহাউসের ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে কয়েকদিন ধরেই পর্যটকের চাপ রয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে উঠছেন তারা।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ভাড়া নির্ধারণে তদারকি করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবকেরাও ভিড় নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
এদিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, বিছনাকান্দি ও রাতারগুল এলাকায়ও পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের আগেই অধিকাংশ আবাসিক হোটেলের কক্ষ বুকিং হয়ে যায়।
ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরের দুই দিনে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এসব এলাকায় ঘুরতে আসেন। এর মধ্যে জাফলংয়ে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই দলবেঁধে পর্যটকেরা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরছেন। মেঘালয়ের পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের মিশ্রণে তৈরি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন তারা। অনেকেই নৌকায় করে ঝরনা, খাসিয়া পল্লি ও আশপাশের চা-বাগানে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক মিজানুর রহমান বলেন, পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হতে পারে না। পরিবেশটা খুবই শান্ত ও সুন্দর।
পর্যটকদের এই বাড়তি উপস্থিতিতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নৌকার মাঝি, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী, ট্যুর গাইড ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জাফলং এলাকার এক ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদ এলেই পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রাণ ফিরে আসে। এতে তাদের আয়ও বাড়ে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উৎপল কুমার চৌধুরী জানান, পর্যটন স্পটগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি থাকবে।
সিলেট, ঈদ, পর্যটন, ছুটি